নিশানা SSC দুর্নীতি: হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ, অযোগ্যদের বাদ দিয়ে নিয়োগে স্পষ্ট বার্তা

- আপডেট : ৭ জুলাই ২০২৫, সোমবার
- / 223
পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: রাজ্য ও স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) বড় ধাক্কা হাইকোর্টে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসরণ না করায় নতুন করে বিপাকে রাজ্য সরকার ও এসএসসি। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সোমবার স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন—এসএসসি-র নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চিহ্নিত অযোগ্যদের কোনও অবস্থাতেই সুযোগ দেওয়া যাবে না।
প্রসঙ্গত, এসএসসি দুর্নীতির জেরে সুপ্রিম কোর্ট প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল করে। তারপরেই ৩০ মে এসএসসি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তির আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একযোগে ৯টি মামলা দায়ের হয়। শুনানিতে উঠে আসে বিস্ফোরক তথ্য—অযোগ্যদের ফের নিয়োগে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছে এসএসসি ও রাজ্য।
কমিশনের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি ছিল, “সুপ্রিম কোর্ট কোথাও বলেনি যে অযোগ্যরা পরীক্ষায় বসতে পারবে না।” সেই সঙ্গে বলেন, যদি অযোগ্যরা বসতে না পারেন, তবে ২০১৬-র নিয়োগে ব্যর্থ প্রার্থীরাও কেন বসবেন?
এই যুক্তিতে ক্ষুব্ধ বিচারপতি ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, “কমিশনের কাছ থেকে এই ব্যাখ্যা আশা করিনি। সুপ্রিম কোর্ট টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তারপরও এই ধরনের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়।”
যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ-সহ একাধিক আবেদনকারীর আইনজীবীরা আদালতে জানান, এসএসসি-র নতুন বিজ্ঞপ্তি বেআইনি। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে অযোগ্য ও যোগ্য প্রার্থীদের পৃথকভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। আইনজীবী অনিন্দ্য মিত্র বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, অযোগ্যরা পরীক্ষায় বসতে পারবে না। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি সেই নির্দেশ মানেনি।”
আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, “১০ নম্বর অতিরিক্ত কেন দেওয়া হল চাকরি হারানো প্রার্থীদের?” এই প্রশ্নে ফের উঠে আসে প্রতারণা ও জালিয়াতির প্রসঙ্গ।
এসএসসি-র পক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “সবাই পরীক্ষায় বসতে পারবে। অযোগ্যরা বয়সের ছাড় পাবে না, কিন্তু বসতে তো পারবে।” বিচারপতির পাল্টা প্রশ্ন, “অযোগ্যরা কি শিক্ষক হিসেবে আবার ১০ শতাংশ নম্বরের সুবিধা পাবে? যারা প্রতারণার অভিযোগে চিহ্নিত, তাদের ফের সুবিধা দেওয়াটা কী যুক্তিসঙ্গত?”
শেষপর্যন্ত বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, চিহ্নিত অযোগ্যদের সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, তার মধ্যেই নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একাধিক বার একই ভুলের জন্য কতবার সাজা পাবে অযোগ্যরা?” বিচারপতির কড়া জবাব, “তারা প্রতারণা করে চাকরি পেয়েছে, তাই তারা বাদ যাবে। এটিই ন্যায়বিচার।”