৩০ অগাস্ট ২০২৫, শনিবার, ১৩ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমবঙ্গের দিনহাটার বাসিন্দাকে এনআরসি নোটিস, তীব্র প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আফিয়া‌‌ নৌশিন
  • আপডেট : ৮ জুলাই ২০২৫, মঙ্গলবার
  • / 265

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: অসম সরকারের ফরেনার্স ট্রাইবুনালের তরফে NRC নোটিস পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা উত্তম কুমার ব্রজবাসী। তিনি গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও তাঁকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে নোটিস পাঠানোয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

উত্তম ব্রজবাসী দিনহাটার সাদিয়াল কুঠির বাসিন্দা। তাঁর দাবি, “আমি কোনও দিন কোচবিহার তো দূরের কথা, পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও যাইনি।”

তবে অসম ফরেনার্স ট্রাইবুনালের তরফে পাঠানো নোটিসে বলা হয়েছে, তিনি ১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে অসম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন, এবং বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় তাঁকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। রবিবার তিনি নিজে জেলা পুলিশ সুপারের দফতর থেকে ওই চিঠি হাতে পান।

আরও পড়ুন: নির্বাচন আসলেই এজেন্সির দাপাদাপি বাড়ে: Mamata Banerjee

মঙ্গলবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন: “আমি হতবাক ও বিচলিত যে, রাজবংশী সম্প্রদায়ের একজন সম্মানীয় ব্যক্তি, যিনি পাঁচ দশকেরও বেশি সময় বাংলার বাসিন্দা, তাঁকে NRC নোটিস পাঠানো হয়েছে। বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ‘বিদেশি’ বলে হয়রানি করা হচ্ছে।”

আরও পড়ুন: বৈষ্ণোদেবী যাত্রায় নিহত পুণ্যার্থীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

তিনি আরও বলেন, “এটি গণতন্ত্রের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ। বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে NRC চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে, যেখানে তাদের কোনও সাংবিধানিক অধিকার নেই। এটি প্রান্তিক জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা।”

আরও পড়ুন: Richest and Poorest CM: দেশের সবথেকে গরিব মুখ্যমন্ত্রীর তকমা পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ধনী কে?

এর আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় NRC-র বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিজেপি জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজনের উদ্দেশ্যে NRC ব্যবহার করছে। এবার সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের একজন বাসিন্দাকে অসমের ফরেনার্স ট্রাইবুনালের নোটিস পাঠানোয় সেই আশঙ্কা আরও জোরালো হলো।

উত্তম ব্রজবাসী জানান, “নোটিসে বলা হয়েছে, পুলিশ ভেরিফিকেশনে আমি নথি দেখাতে পারিনি। অথচ আমার আধার, ভোটার কার্ড সব রয়েছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।”

এনআরসি নোটিস প্রসঙ্গে দিনহাটার স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে।

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

পশ্চিমবঙ্গের দিনহাটার বাসিন্দাকে এনআরসি নোটিস, তীব্র প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আপডেট : ৮ জুলাই ২০২৫, মঙ্গলবার

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: অসম সরকারের ফরেনার্স ট্রাইবুনালের তরফে NRC নোটিস পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা উত্তম কুমার ব্রজবাসী। তিনি গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও তাঁকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে নোটিস পাঠানোয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

উত্তম ব্রজবাসী দিনহাটার সাদিয়াল কুঠির বাসিন্দা। তাঁর দাবি, “আমি কোনও দিন কোচবিহার তো দূরের কথা, পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও যাইনি।”

তবে অসম ফরেনার্স ট্রাইবুনালের তরফে পাঠানো নোটিসে বলা হয়েছে, তিনি ১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে অসম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন, এবং বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় তাঁকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। রবিবার তিনি নিজে জেলা পুলিশ সুপারের দফতর থেকে ওই চিঠি হাতে পান।

আরও পড়ুন: নির্বাচন আসলেই এজেন্সির দাপাদাপি বাড়ে: Mamata Banerjee

মঙ্গলবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন: “আমি হতবাক ও বিচলিত যে, রাজবংশী সম্প্রদায়ের একজন সম্মানীয় ব্যক্তি, যিনি পাঁচ দশকেরও বেশি সময় বাংলার বাসিন্দা, তাঁকে NRC নোটিস পাঠানো হয়েছে। বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ‘বিদেশি’ বলে হয়রানি করা হচ্ছে।”

আরও পড়ুন: বৈষ্ণোদেবী যাত্রায় নিহত পুণ্যার্থীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

তিনি আরও বলেন, “এটি গণতন্ত্রের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ। বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে NRC চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে, যেখানে তাদের কোনও সাংবিধানিক অধিকার নেই। এটি প্রান্তিক জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা।”

আরও পড়ুন: Richest and Poorest CM: দেশের সবথেকে গরিব মুখ্যমন্ত্রীর তকমা পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ধনী কে?

এর আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় NRC-র বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিজেপি জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজনের উদ্দেশ্যে NRC ব্যবহার করছে। এবার সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের একজন বাসিন্দাকে অসমের ফরেনার্স ট্রাইবুনালের নোটিস পাঠানোয় সেই আশঙ্কা আরও জোরালো হলো।

উত্তম ব্রজবাসী জানান, “নোটিসে বলা হয়েছে, পুলিশ ভেরিফিকেশনে আমি নথি দেখাতে পারিনি। অথচ আমার আধার, ভোটার কার্ড সব রয়েছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।”

এনআরসি নোটিস প্রসঙ্গে দিনহাটার স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে।