০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শহিদ তিতুমীরের আত্মোৎসর্গ দিবস উদযাপন নারকেলবেড়িয়ায়

ইনামুল হক, বসিরহাট: ১৯ নভেম্বর ছিল মুক্তি সংগ্রামের প্রথম শহিদ তিতুমীরের আত্মোৎসর্গ দিবস। তিতুমীরের শাহাদত ভূমি উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার নারকেলবেড়িয়াতে দিনটি উৎযাপিত হল আড়ম্বরহীন ভাবে। আয়োজক সংস্থা শহিদ তিতুমীর মিশন। প্রসঙ্গত, ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর অত্যাচারী নীলকর ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে একটি অসম লড়াইয়ে শাহাদাত বরণ করেন সৈয়দ মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর। ধ্বংস হয় তার হাতে গড়া বাঁশের কেল্লা। বুধবার বিকেলে তিতুমীরে স্মরণে এক মিনিট নীরবতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ১৯ নভেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ উইক বা বিশ্ব ঐতিহ্য সপ্তাহের সূচনায় এই দিনটি উদযাপনে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের উপস্থিতি ঘটে। তিতুমীরের যুদ্ধক্ষেত্র নারকেলবেড়িয়া ও জন্মভূমি চাঁদপুর গ্রাম দুটিকে হেরিটেজ ভিলেজ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিতে একটি আলোচনা সভা হয়। বক্তব্য রাখেন পিপলস্ গ্রীণ সোসাইটির সম্পাদক শ্যামল ঘোষ, তেঁতুলিয়া শহীদ নুরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক অরুণ কুমার পাল, সংগঠনিক যুগ্ম সম্পাদক প্রবীর কুমার রায় ও উর্মি চক্রবর্তী, বিশিষ্ট তথ্য চিত্র পরিচালক রূপক প্রামাণিক, আটঘরা সংহতি কেন্দ্রের সম্পাদক পলাশ বর্ধন, কেওটশা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোবাস্বার হোসেন, কবি ও শিক্ষক অয়ন বিশ্বাস, মোর্তজা হোসেন, কবি রমজান আলী, মন্টু মন্ডল প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন ইরান আলি। শহিদ তিতুমীর মিশনের সম্পাদক রবিউল হক জানান, শহিদ তিতুমীরের ইতিহাসকে অক্ষত রাখতে এবং তার স্মরণে আমাদের দাবি জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ মাইনোরিটি কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। সম্প্রতি চেয়ারম্যান আহমদ হাসান ইমরান পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এ বিষয়ে অবগত করলে সরকারি তরফে এই এলাকাটিতে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে পাঁচ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ঘোষণার কথা জানা গেলেও। রবিউল হকের দাবি, এই সংক্রান্ত সরকারি কোন নির্দেশনা আমাদের কাছে পৌঁছয়নি। এ বিষয়ে এদিনের অনুষ্ঠান সভাপতি শ্যামল ঘোষ বলেন, আরটিআই করে বিষয়টি জানা দরকার। পাশাপাশি বাঁশের কেল্লা খ্যাত তিতুমীরের শাহাদত ভূমি নারকেলবেড়িয়া ও জন্মক্ষেত্র হায়দারপুর চাঁদপুর গ্রাম দুটিকে হেরিটেজ ভিলেজ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা যেতে পারে। স্কুল, কলেজ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে এই আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অন্য বক্তারাও এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেন।

আরও পড়ুন: কালীপুজোতে নজর কাড়ল সুন্দরবন, তিতুমীরের স্মৃতি ধরে রাখতে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে জলের উপর বাঁশেরকেল্লা
প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

সুপ্রিম কোর্টে পিছোল I-PAC শুনানি, পরবর্তী দিনক্ষণ ১০ ফেব্রুয়ারি

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

শহিদ তিতুমীরের আত্মোৎসর্গ দিবস উদযাপন নারকেলবেড়িয়ায়

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, বুধবার

ইনামুল হক, বসিরহাট: ১৯ নভেম্বর ছিল মুক্তি সংগ্রামের প্রথম শহিদ তিতুমীরের আত্মোৎসর্গ দিবস। তিতুমীরের শাহাদত ভূমি উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার নারকেলবেড়িয়াতে দিনটি উৎযাপিত হল আড়ম্বরহীন ভাবে। আয়োজক সংস্থা শহিদ তিতুমীর মিশন। প্রসঙ্গত, ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর অত্যাচারী নীলকর ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে একটি অসম লড়াইয়ে শাহাদাত বরণ করেন সৈয়দ মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর। ধ্বংস হয় তার হাতে গড়া বাঁশের কেল্লা। বুধবার বিকেলে তিতুমীরে স্মরণে এক মিনিট নীরবতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ১৯ নভেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ উইক বা বিশ্ব ঐতিহ্য সপ্তাহের সূচনায় এই দিনটি উদযাপনে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের উপস্থিতি ঘটে। তিতুমীরের যুদ্ধক্ষেত্র নারকেলবেড়িয়া ও জন্মভূমি চাঁদপুর গ্রাম দুটিকে হেরিটেজ ভিলেজ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিতে একটি আলোচনা সভা হয়। বক্তব্য রাখেন পিপলস্ গ্রীণ সোসাইটির সম্পাদক শ্যামল ঘোষ, তেঁতুলিয়া শহীদ নুরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক অরুণ কুমার পাল, সংগঠনিক যুগ্ম সম্পাদক প্রবীর কুমার রায় ও উর্মি চক্রবর্তী, বিশিষ্ট তথ্য চিত্র পরিচালক রূপক প্রামাণিক, আটঘরা সংহতি কেন্দ্রের সম্পাদক পলাশ বর্ধন, কেওটশা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোবাস্বার হোসেন, কবি ও শিক্ষক অয়ন বিশ্বাস, মোর্তজা হোসেন, কবি রমজান আলী, মন্টু মন্ডল প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন ইরান আলি। শহিদ তিতুমীর মিশনের সম্পাদক রবিউল হক জানান, শহিদ তিতুমীরের ইতিহাসকে অক্ষত রাখতে এবং তার স্মরণে আমাদের দাবি জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ মাইনোরিটি কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। সম্প্রতি চেয়ারম্যান আহমদ হাসান ইমরান পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এ বিষয়ে অবগত করলে সরকারি তরফে এই এলাকাটিতে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে পাঁচ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ঘোষণার কথা জানা গেলেও। রবিউল হকের দাবি, এই সংক্রান্ত সরকারি কোন নির্দেশনা আমাদের কাছে পৌঁছয়নি। এ বিষয়ে এদিনের অনুষ্ঠান সভাপতি শ্যামল ঘোষ বলেন, আরটিআই করে বিষয়টি জানা দরকার। পাশাপাশি বাঁশের কেল্লা খ্যাত তিতুমীরের শাহাদত ভূমি নারকেলবেড়িয়া ও জন্মক্ষেত্র হায়দারপুর চাঁদপুর গ্রাম দুটিকে হেরিটেজ ভিলেজ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা যেতে পারে। স্কুল, কলেজ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে এই আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অন্য বক্তারাও এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেন।

আরও পড়ুন: কালীপুজোতে নজর কাড়ল সুন্দরবন, তিতুমীরের স্মৃতি ধরে রাখতে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে জলের উপর বাঁশেরকেল্লা