১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কোচবিহারের সোনারি কাকরিবাড়ি গ্রামে নির্মীয়মাণ বেসরকারি স্কুল বিল্ডিং ভেঙে মৃত শ্রমিক

রুবায়েত মোস্তাফা, (কোচবিহার): বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে গেল কোচবিহারের পুন্ডিবাড়িতে। বৃহস্পতিবার সোনারি কাকরিবাড়ি গ্রামে নির্মীয়মাণ একটি বেসরকারি স্কুলের বিল্ডিংয়ের সামনের অংশের একটি ছাদ ভেঙে পড়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটল আজ বিকেল চারটে নাগাদ।এ খবর লেখা পর্যন্ত ছাদের নিচ থেকে একজনের দেহ উদ্ধার করা গিয়েছে। মৃতের নাম অভিজিৎ দাস(৩০)। তার দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কোচবিহার সদর মহকুমা শাসক ( এসডিপিও) রাকিবুর রহমান বলেন, অভিজিৎ দাস নামে একজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনারি কাকরি বাড়ি গ্রামে এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দমকল পুলিশ প্রশাসন কোচবিহার সদর মহকুমার শাসক, কোচবিহার দুই নম্বর ব্লকের বিডিও পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছেন।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে ভেঙে পড়া ছাদ সরিয়ে উদ্ধার কাজ।

স্থানীয় বাসিন্দা সাবিত্রী বর্মন বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে আমার বাড়ি। তখন সম্ভবত বিকেল চারটা হবে, সময়টা ঠিক মনে পড়ছে না হঠাৎ এই বিল্ডিংয়ের দিক থেকে কিছু ভেঙে পড়ার শব্দ শুনতে পেয়ে  পাড়ার অন্য বাসিন্দাদের সঙ্গে ছুটে আসি। এসে দেখি নির্মীয়মাণ এই স্কুল বিল্ডিংটির সামনের একটি অংশের কাঁচা ঢালাইয়ের ছাদ ভেঙে পড়েছে।

ছাদটি এদিনই ঢালাই হয়েছিল। ঢালাই সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল, ছাদের উপরে কিছু সংখ্যক শ্রমিক তখনও ছিল এবং ছাদের নিচে সাটারিং এর বাঁশ বা খুঁটি ঠিক করছিল কয়েকজন। ছাদটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার সময় দুজন বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয় কোনওক্রমে। কিন্তু একজন চাপা পড়ে যায়। একজন না বেশি সংখ্যক আছে সেটা এখনও বোঝা যাচ্ছে না।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে তখন কান্নায় ভেঙে পড়েছিল ছাদের নীচে চাপা পড়া অভিজিৎ দাসের স্ত্রী মিনু দাস। অভিজিৎ দাসের বাবা মন্তেশ্বর দাস এবং অভিজিতের মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। স্ত্রীর পাশাপাশি অভিজিতের দুটি শিশু কন্যাও ও রয়েছে।

বেসরকারি যে সংস্থার স্কুল তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ঠিকাদারকে বিল্ডিং তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যে ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের আন্ডারে নির্মাণ কাজ চলছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর ধরে একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যমিক হয়ে স্কুলের বিল্ডিং এর নির্মাণ কাজ চলছে।

এদিন স্কুল বিল্ডিংয়ের সামনের অংশে গাড়ি বারান্দা র মত  একটি ছাদের ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। এদিন স্কুল বিল্ডিং এর সামনের দিকে কাজ চলাকালীন স্কুল বিল্ডিংয়ের একটি অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। বিদ্যালয়ের ছাদ ভেঙে বেশ কয়েকজন শ্রমিক জখম হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

খবর পেয়ে কোচবিহার থেকে দমকল, পুণ্ডিবাড়ি থানার পুলিশ, সিভিল ডিফেন্সের ভলান্টিয়াররা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। স্থানীয়রাও উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন।

সদর মহকুমা শাসক রাকিবুর রহমান,তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা চেয়ারম্যান পার্থ প্রতিম রায় কোচবিহার-২ এর বিডিও শেরিং জ্যাম ভুটিয়া, ব্লক বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিক অরূপ চৌধুরী, কোচবিহার উত্তরের বিধায়ক তথা বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি সুকুমার রায়, ডিএসপি হেডকোয়ার্টার চন্দন দাস  সহ আরও অনেকেই ঘটনাস্থলে হাজির হন। তবে এই খবর লেখা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেটুকু জানা গিয়েছে তাতে ভেঙে পড়া ছাদের নিচে আর কেউ নেই।

 

 

 

সর্বধিক পাঠিত

পবিত্র রমজানে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ, মোতায়েন বিপুল সংখ্যক ইসরায়েলি পুলিশ

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

কোচবিহারের সোনারি কাকরিবাড়ি গ্রামে নির্মীয়মাণ বেসরকারি স্কুল বিল্ডিং ভেঙে মৃত শ্রমিক

আপডেট : ৯ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার

রুবায়েত মোস্তাফা, (কোচবিহার): বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে গেল কোচবিহারের পুন্ডিবাড়িতে। বৃহস্পতিবার সোনারি কাকরিবাড়ি গ্রামে নির্মীয়মাণ একটি বেসরকারি স্কুলের বিল্ডিংয়ের সামনের অংশের একটি ছাদ ভেঙে পড়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটল আজ বিকেল চারটে নাগাদ।এ খবর লেখা পর্যন্ত ছাদের নিচ থেকে একজনের দেহ উদ্ধার করা গিয়েছে। মৃতের নাম অভিজিৎ দাস(৩০)। তার দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কোচবিহার সদর মহকুমা শাসক ( এসডিপিও) রাকিবুর রহমান বলেন, অভিজিৎ দাস নামে একজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনারি কাকরি বাড়ি গ্রামে এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দমকল পুলিশ প্রশাসন কোচবিহার সদর মহকুমার শাসক, কোচবিহার দুই নম্বর ব্লকের বিডিও পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছেন।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে ভেঙে পড়া ছাদ সরিয়ে উদ্ধার কাজ।

স্থানীয় বাসিন্দা সাবিত্রী বর্মন বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে আমার বাড়ি। তখন সম্ভবত বিকেল চারটা হবে, সময়টা ঠিক মনে পড়ছে না হঠাৎ এই বিল্ডিংয়ের দিক থেকে কিছু ভেঙে পড়ার শব্দ শুনতে পেয়ে  পাড়ার অন্য বাসিন্দাদের সঙ্গে ছুটে আসি। এসে দেখি নির্মীয়মাণ এই স্কুল বিল্ডিংটির সামনের একটি অংশের কাঁচা ঢালাইয়ের ছাদ ভেঙে পড়েছে।

ছাদটি এদিনই ঢালাই হয়েছিল। ঢালাই সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল, ছাদের উপরে কিছু সংখ্যক শ্রমিক তখনও ছিল এবং ছাদের নিচে সাটারিং এর বাঁশ বা খুঁটি ঠিক করছিল কয়েকজন। ছাদটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার সময় দুজন বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয় কোনওক্রমে। কিন্তু একজন চাপা পড়ে যায়। একজন না বেশি সংখ্যক আছে সেটা এখনও বোঝা যাচ্ছে না।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে তখন কান্নায় ভেঙে পড়েছিল ছাদের নীচে চাপা পড়া অভিজিৎ দাসের স্ত্রী মিনু দাস। অভিজিৎ দাসের বাবা মন্তেশ্বর দাস এবং অভিজিতের মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। স্ত্রীর পাশাপাশি অভিজিতের দুটি শিশু কন্যাও ও রয়েছে।

বেসরকারি যে সংস্থার স্কুল তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ঠিকাদারকে বিল্ডিং তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যে ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের আন্ডারে নির্মাণ কাজ চলছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর ধরে একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যমিক হয়ে স্কুলের বিল্ডিং এর নির্মাণ কাজ চলছে।

এদিন স্কুল বিল্ডিংয়ের সামনের অংশে গাড়ি বারান্দা র মত  একটি ছাদের ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। এদিন স্কুল বিল্ডিং এর সামনের দিকে কাজ চলাকালীন স্কুল বিল্ডিংয়ের একটি অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। বিদ্যালয়ের ছাদ ভেঙে বেশ কয়েকজন শ্রমিক জখম হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

খবর পেয়ে কোচবিহার থেকে দমকল, পুণ্ডিবাড়ি থানার পুলিশ, সিভিল ডিফেন্সের ভলান্টিয়াররা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। স্থানীয়রাও উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন।

সদর মহকুমা শাসক রাকিবুর রহমান,তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা চেয়ারম্যান পার্থ প্রতিম রায় কোচবিহার-২ এর বিডিও শেরিং জ্যাম ভুটিয়া, ব্লক বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিক অরূপ চৌধুরী, কোচবিহার উত্তরের বিধায়ক তথা বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি সুকুমার রায়, ডিএসপি হেডকোয়ার্টার চন্দন দাস  সহ আরও অনেকেই ঘটনাস্থলে হাজির হন। তবে এই খবর লেখা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেটুকু জানা গিয়েছে তাতে ভেঙে পড়া ছাদের নিচে আর কেউ নেই।