পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: হাসিনা সরকারের পতনের এক বৎসর পূর্ণ হতে এখনও মাস কয়েক বাকি। জনগণের প্রবল আন্দোলনের ফলে পালিয়ে যান আওয়ামি লিগ প্রধান শেখ হাসিনা। এরপর কয়েক মাস ধরে চলে বাংলাদেশে প্রবল অরাজক পরিস্থিতি। দেশের তরুণদের আন্দোলনের ফলে বহু স্থাপনার ক্ষতি হয়। স্থাপত্যকীর্তি ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটে। সেই তালিকায় সদ্য যুক্ত হয়েছে সিরাজগঞ্জে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি-বিজড়িত কাছারি বাড়ি ভাঙচুর। বিষয়টি আন্তর্জাতিক হওয়ায় তার যথাযথ তদন্তের দাবিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি লিখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে। বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলে যাতে ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। দেশের কোনও মুখ্যমন্ত্রী এ ধরনের উদ্যোগ না নিলেও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখেন এবং এর প্রতিকার দাবি করেন। এত কিছুর পর এবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসছেন নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লা। আগামীকাল সোমবার নবান্নে সেই সাক্ষাতের সম্ভাবনা। যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে নিঃসন্দেহে।
প্রসঙ্গত, ৯ বছর পর বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসছেন প্রতিবেশী দেশের দূত। এর আগে ২০১৬ সালে তৎকালীন ঢাকার হাইকমিশনার মোয়াজ্জেম আলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তারপর বাংলাদেশের কোনও শীর্ষ পর্যায়ের আধিকারিক-এর সঙ্গে দেখা হয়নি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর। এবার আগামী সোমবার, অর্থাৎ ২৩ জুন নয়াদিল্লির হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লা আসছেন নবান্নে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে। সূত্রের খবর, সিরাজগঞ্জে রবীন্দ্রনাথের বাড়ি ভাঙচুর নিয়ে ‘প্রকৃত তথ্য’ তুলে ধরবেন তাঁর কাছে। এ ছাড়া সীমান্ত সমস্যা নিয়েও কথা হতে পারে।আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত ২০১৫ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ঢাকা সফর করেন। সেখানে দুই দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘ ৯ বছর অতিক্রান্ত হলেও এর মাঝে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও শীর্ষ আধিকারিকের বৈঠক হয়নি। ওই সময় ভারত বাংলাদেশ একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই সময় কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে সরাসরি আগরতলা বাস যাত্রারও সূচনা হয়। ফলে এবারের বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ইউনূস সরকারের আমন্ত্রণ গ্রহণের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুরোধ করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।