বিশেষ প্রতিবেদকঃ সরকারি সব মাদ্রাসা বন্ধ করার পর গো-সংরক্ষণের নামে গো-মাংসে রাশ টানার কাজ শেষ করে এবার অসমের হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকারের নিশানায় কি এবার বোরকা? কয়েক দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি খবর নেটিজেনদের চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে– এবার কি অসমের বিজেপি সরকার আর একটি বিতর্কিত মুসলিম-বিরোধী পদক্ষেপ নিতে চলেছে? এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা না থাকলেও দিন-দুপুরে অন্দরে যে খবরটি ঘুরপাক খাচ্ছে তা হল– নতুন বছরের শুরুর দিকেই অসমে বোরকা নিষিদ্ধের পথে হাঁটবে হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার! সোশ্যাল মিডিয়ায় দু'দিন থেকেই এ বিষয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে নানা মতামতও উঠে আসছে। তবে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিবের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অসমজুড়ে বেশ হইচই পড়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বোরকার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর দাবি উঠছে শাসক দলের পক্ষ থেকে।
মাস কয়েক আগে উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী আনন্দ স্বরূপ শুক্লা বলেছেন– বেশি দেরি নেই– এই দেশে বোরকা থেকে মুক্তি পাবেন মুসলিম রমনীরা। এবার অসমেও সেই বোরকা-বিরোধী সুর চড়তে শুরু করল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল অসমে বোরকা নিষিদ্ধের দাবি উঠল মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার রাজনৈতিক সচিব তথা নলবাড়ির বিধায়ক জয়ন্ত মল্ল বডYয়ার মুখ থেকে।আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে জয়ন্ত মল্ল কোনও রাখঢাক না রেখে বলেন– বোরকা ভারতীয় সভ্যতা-সংস্কৃতি পরিপন্থী। ধর্মের দোহাই দিয়ে মুসলিম নারীদের বোরকা পড়িয়ে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে। আমি সরকারের কাছে দাবি করব– এই রাজ্যের মুসলিম নারীদের বোরকায় ঢেকে দেওয়ার রীতিতে ছেদ পড়ুক নিজের গায়ে যাতে সাম্প্রদায়িকতার কালি না লাগে– সেই দিক বিবেচনা করে জয়ন্ত মল্ল পরক্ষণেই বলেন– ভারতীয় সভ্যতা-সংস্কৃতির পরিপন্থী বোরকা প্রথার অবসান ঘটাতে আমি চাই মুসলিম সমাজকেই এগিয়ে এসে দাবি তুলতে হবে।
মুসলিম সমাজ থেকে দাবি তুলুন সরকার আপনাদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন– ধর্মীয় বিষয় নয়– সামাজিক সংস্কারের পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যে বোরকা প্রথার বিলুপ্তি ঘটানো দরকার।আরও পড়ুন:
আবার নেট দুনিয়ায় বোরকার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেযব মত উঠে আসছে– তার মধ্যে অন্যতম অসম উত্তর-পূর্বের আন্তর্জাতিক সীমান্ত-ঘেঁষা রাজ্য। এখানে উগ্রবাদী ও জঙ্গি কার্যকলাপ জারি রয়েছে। তাই বোরকা নিষিদ্ধ করা জরুরি। আর বিরোধীরা বলছে– এটা আসলে বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া সেলের কারসাজি।
সরকার নিজে উদ্যোগী হয়ে বোরকা নিষিদ্ধের পথে হাঁটলে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের কথা উঠে আসবে। তাই আগে থেকেই সামাজিক মাধ্যমে জমি তৈরি করে রাখার চেষ্টা চলছে।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে– অসমের মুসলিম বুদ্ধিজীবী মহলের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে জোরদার আপত্তি উঠছে। কেউ বলছেন– বোরকা নিষিদ্ধ করা মানে সরাসরি ইসলাম ধর্মের লোকদের মৌলিক অধিকার খর্ব করার নামান্তর। কেউ বলছেন– এটা তো আর 'গো-মাতা'কে রক্ষা করার মতো কিছু নয় যে– একজন গো-রক্ষা না করলে অন্যের ধর্ম পালনে ব্যাঘাত ঘটবে! এটা মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার– যা সংবিধান প্রদত্ত।
আরও পড়ুন: