পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: বিজ্ঞাপনে দুই সমকামী নারীর করবা চৌথ পালনের কাহিনি দেখিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল সমালোচিত ডাবর। এমন বিজ্ঞাপন দেখে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র। শেষমেশ সেই বিজ্ঞাপনী ভিডিয়ো প্রত্যাহার করল ডাবর।চাপের মুখে বিজ্ঞাপনটিই সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটপর্ম থেকে সরিয়ে নিল তারা । একইসঙ্গে টুইটারে বিবৃতি জারি করে চাইল ক্ষমাও।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
‘ফেম ক্রিম গোল্ড ব্লিচ’-এর এই বিজ্ঞাপনে দেখা যায় দুই তরুণীকে। করবা চৌথের প্রস্তুতি ব্যস্ত তাঁরা।
একজন অন্যজনের মুখে ক্রিম লাগিয়ে দিতে দিতে আলোচনা করছিলেন উৎসবের গুরুত্ব ও তার অন্তর্নিহিত কারণ নিয়ে। সেই সময় আরও একজন মহিলাকে সেখানে দেখা যায়। তিনি ওই দুই তরুণীকে শাড়ি উপহার দেন। বিজ্ঞাপনের একেবারে শেষে দেখা যাচ্ছে, ওই দুই তরুণী করবা চৌথ পালন করছেন। যা থেকে পরিষ্কার হয়ে যায়, তাঁরা দু’জন পরস্পরের ‘পার্টনার’।আরও পড়ুন:
এই বিজ্ঞাপন নিয়েও শুরু হয় ধর্মীয় চাপান-উতোর। 'শুধুমাত্র হিন্দু উৎসবের বেলাতেই এমন উদারতা কেন? অন্য ধর্মের উৎসবের বেলায় সাহস নেই?
' প্রশ্ন তোলে একাংশ।আরও পড়ুন:
কেউ কেউ সমকামীতাকে নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন। বলেন, 'এখন দুই মহিলার করওয়া চৌথ করা দেখাচ্ছে। পরে দু'জন পুরুষের সাতপাকে হাঁটা দেখাবে।'
আরও পড়ুন:
বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র পুলিশের ডিজিকে বিজ্ঞাপনটি পরীক্ষা করতে নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে ডাবরকে এটি সরানোর নির্দেশ দিতে বলেন। তিনি জানান, তা করা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট সমকামিতাকে অপরাধমুক্ত করেছে।
কিন্তু ভারতীয় সমাজে বিষয়টিকে খারপ চোকেহি দেখা হয়। তা স্বাভাবিক নয় বলেও মনে করেন হিন্দু-মুসলিম- শিখ-খিরিস্তান নির্বিশেষে অনেকেই। তাদের বক্তব্য হল পশ্চিমীরা প্রচার মাধমের মাধ্যমে নিজেদের দেশের অসুথ সংষ্কৃতি দীর্ঘ দিন ধরেই এদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করছে। প্রথমে তারা অসুস্থ সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটায়। পরে তা নিয়ে তারা ব্যবসা করে। এইভাবেই ভ্যালেন্টাইন ডে আমদানি করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
তবে বিজেপি জমানায় বিজ্ঞাপন বিতর্ক যেন রুটিনে পরিণত হয়েছে। তানিষ্ক হোক কিংবা ফ্যাব ইন্ডিয়া, গেরুয়া দাপটে বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে নামি দামি এই কোম্পানিগুলি। অনেকে বলছেন, মোদি জমানায় কি সত্যিই আলাদা করে 'হিন্দু খতরে মে' স্লোগানকে বাজারজাত করা হচ্ছে?