পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর পাল্টা প্রত্যাঘাত শুরু করেছে ইরান। এই সংঘাতের জেরে বাড়ছে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার হওয়া এই আলোচনায় যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রাণহানির বিষয়েও গভীর চিন্তা প্রকাশ করেছেন তিনি।


সূত্রের খবর, আলোচনায় মোদী কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধান এবং দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, যুদ্ধের বদলে আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর।
সেই আলোচনার পর ভারতের জন্য জ্বালানি বহনকারী জাহাজ চলাচলের অনুমতি মিলেছে বলে জানা গেছে।
এছাড়াও ইরানে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন দিল্লি। প্রধানমন্ত্রী মোদীও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনায় এই বিষয়টি বিশেষভাবে উত্থাপন করেছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয়দের সুরক্ষা এবং পণ্য ও জ্বালানির অবাধ পরিবহণ নিশ্চিত করাই ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে মোদী জানান, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি লিখেছেন, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানি নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। একইসঙ্গে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আলোচনা ও কূটনীতির পথে এগোনোর আহ্বানও জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
ভারত যে কোনও পরিস্থিতিতেই যুদ্ধের পক্ষপাতী নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন মোদী। তাঁর মতে, সংলাপ এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব। পশ্চিম এশিয়ায় কর্মরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভারতের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র।