পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলা যুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক বোমাবর্ষণ হলেও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনও দৃঢ় অবস্থায় রয়েছে। দেশটির সরকার শিগগিরই ভেঙে পড়বে বা পতন ঘটবে— এমন কোনো ঝুঁকি আপাতত দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। গোপন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে ইরানের সরকার এখনও দেশের পরিস্থিতির উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতেই সর্বশেষ মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে।

অভিযান শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণকে সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে পরে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা জানান, সরকার পরিবর্তন করা এই অভিযানের মূল লক্ষ্য নয়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সামরিক অভিযান খুব শিগগিরই শেষ করা হতে পারে। তবে ইরানের নেতৃত্ব যদি কঠোর অবস্থানে অনড় থাকে, তাহলে সংঘর্ষের সম্মানজনক সমাপ্তি টানা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হলেও দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঐক্যে বড় ধরনের ভাঙন দেখা যায়নি।

তাঁর মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এরই মধ্যে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে শিয়া ধর্মগুরুদের পরিষদ।
 

অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষকের মতে, ইজরায়েল বর্তমান শাসনব্যবস্থার কোনো অংশকেই টিকে থাকতে দিতে চায় না। কিন্তু শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে সরকার পতন ঘটানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অনেকের মতে, সে ক্ষেত্রে স্থল অভিযান প্রয়োজন হতে পারে।


 

এদিকে প্রতিবেশী ইরাকে অবস্থানরত কুর্দি যোদ্ধারা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে। কুর্দি নেতা আবদুল্লাহ মোহতাদি দাবি করেছেন, তাঁদের হাজার হাজার যোদ্ধা অস্ত্র হাতে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, ইরানের বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই চালানোর মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র বা জনবল কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর নেই। এছাড়া কুর্দিদের ইরানে পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প।