পুবের কলম প্রতিবেদক, কলকাতা: ধর্মতলায় এসআইআর-এর বিরুদ্ধে চলা ধর্নামঞ্চে এক ভিন্ন মেজাজে ধরা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক উত্তাপ, জোরালো ভাষণ এবং স্লোগানের মাঝেই তিনি কিছুটা সময় বের করে নিলেন নিজের শিল্পী সত্তার জন্য। তবে এই শিল্প নিছক কোনো শখ বা ব্যক্তিগত বিনোদনের জন্য নয়, বরং এটি ছিল এক গভীর রাজনৈতিক ও মানবিক প্রতিবাদের ভাষা। ধর্নামঞ্চেই একটি ক্যানভাসে রং-তুলি নিয়ে ছবি আঁকতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। তাঁর এই ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে এসআইআর-এর বিতর্কিত প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এক অভিনব ও প্রতীকী প্রতিবাদ গড়ে উঠল।
মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁর এই শিল্পকর্মের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ক্যানভাসে ফুটে ওঠা তাঁর এই চিত্রটি এসআইআর-এর বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতীকী প্রতিবাদ। এই বিতর্কিত এবং কঠোর প্রক্রিয়ার কারণে যে সমস্ত সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, মূলত তাঁদের স্মৃতিতেই এই ছবি উৎসর্গ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ক্যানভাসে আঁকা ছবির মাধ্যমে নিহতদের প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং তার পাশে মালা রাখা হয়েছে। এই মাল্যদান আসলে সেই সমস্ত হতভাগ্য মানুষদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের প্রতীক। মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, রাজনীতি এবং শিল্পের এই মেলবন্ধনটি কোনোভাবেই ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্যের জন্য নয়, বরং এটি একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের শক্তিশালী মাধ্যম।
আরও পড়ুন:
নিজের এই শৈল্পিক উদ্যোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ক্ষ্মএই পেন্টিংটি এসআইআর-এর বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ।ক্ষ্ম তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও যোগ করেন যে, ক্ষ্মএটি কেবল প্রতিবাদ জানানোর একটি উপায় মাত্র, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।ক্ষ্ম এই ছবি আঁকার দৃশ্যটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই সুপরিচিত পরিচয়টিকে আরও একবার সকলের সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে তিনি কেবল একজন দুঁদে রাজনীতিক ও দক্ষ প্রশাসকই নন, বরং একজন সংবেদনশীল শিল্পীও। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বারবার তাঁর তুলির টানে সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন।
ধর্মতলার ধর্নামঞ্চেও তার কোনো ব্যতিক্রম হলো না।এসআইআর-এর মতো একটি কঠোর বিষয়ের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন চলছে, তখন ধর্নামঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে যখন মঞ্চ থেকে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সুর চড়ানো হচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ এই প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন, ঠিক সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর এই শান্ত অথচ জোরালো প্রতিবাদ উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শিল্পের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর এই কৌশল সাধারণ মানুষের আবেগকে আরও গভীরভাবে স্পর্শ করতে সক্ষম। প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তিনি যেমন পথে নেমে মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করছেন, ঠিক তেমনি একজন শিল্পী হিসেবেও তিনি শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের যন্ত্রণাকে ক্যানভাসে তুলে ধরেছেন। রং এবং তুলির মাধ্যমে তিনি যে বার্তা দিতে চেয়েছেন, তা প্রমাণ করে যে প্রতিবাদের ভাষা কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা ক্যানভাসের বুকেও সমানে গর্জে উঠতে পারে।