পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক : যোশীমঠ নিয়ে শুক্রবার দেওয়া ইসরোর রিপোর্ট সরকারি ওয়েবসাইট থেকে উধাও হয়ে গেল শনিবার। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই রিপোর্ট গায়েবের ঘটনায় বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল, যোশীমঠের পুরো শহরটাই ধীরে ধীরে বসে যেতে পারে। ২৭ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১২ দিনে ৫.৪ সেন্টিমিটার বসে গেছে এই দেবভূমি। উপগ্রহ চিত্রে সেনা হাসপাতাল ও নরসিমা মন্দিরকে স্পর্শকাতর জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
২০২২-এর এপ্রিল ও নভেম্বরের মধ্যবর্তী সময় থেকে যোশীমঠের শহর ধীরে ধীরে বসে যেতে শুরু করেছে। কিন্তু গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির ৮ তারিখ পর্যন্ত মাত্র ১২ দিনেই শহরের মাটি আরও বসে গেছে। সেইসঙ্গে ইসরোর উপগ্রহ চিত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয় ভূমিধসের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে যোশীমঠ-আউলি রোড।আরও পড়ুন:
উপগ্রহচিত্রের মাধ্যমে এই রিপোর্ট তৈরি করেছিল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো এবং ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার (এনএইচআরসি)। এনএইচআরসি-র ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট অংশে ক্লিক করে দেখা গিয়েছে, ওই রিপোর্ট এবং উপগ্রহচিত্রটির কোনও অস্তিত্বই নেই।
উপগ্রহচিত্র পর্যালোচনা করে ইসরো জানিয়েছিল, ২০২২ সালের এপ্রিল মাস থেকে প্রায় ৯ সেন্টিমিটার ডুবে গিয়েছে জোশীমঠ। গত ১২ দিনে এই ডুবে যাওয়ার গতি আরও বেড়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যোশীমঠ শহরের মধ্যবর্তী অংশ সেই তুলনায় পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোয় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম।আরও পড়ুন:
জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্য কোনও মন্তব্য করবে না। তবে তাদের তরফে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির তরফে প্রকাশিত রিপোর্টকে সমাজে অনেক রকম ভাবে ব্যাখ্যা করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল।
এমনকী বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উধাওয়ের বিষয় নিয়ে গত ১২ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি জানানো হয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন:
রিপোর্ট উধাও নিয়ে উত্তরাখণ্ডের শিক্ষামন্ত্রী ধান সিংহ রাওয়াত সংবাদমাধ্যকে জানিয়েছেন, ইসরোর রিপোর্টে কোনও সরকারি বিবৃতি ছিল না। এই বিষয়ে তিনি ইসরো প্রধানের সঙ্গে কথা কথা বলেছেন। সমাজমাধ্যমে যাতে ভুল বার্তা না যায়, সেই পরিস্থিতির কথা ভেবে বৃহত্তর স্বার্থেই আপাতত রিপোর্টকে সরিয়ে ফেলার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।