পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মুসলিমদের পবিত্র আল-আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। মসজিদ চত্বরে ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভিরের প্রবেশ এবং উগ্র ইহুদি জাতীয়তাবাদীদের উসকানির কারণে নতুন করে এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও চিন।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিশেষ বৈঠক হতে পারে। মসজিদ চত্বরে ‘সন্ত্রাসী’ বেন-গাভির প্রবেশের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে মিশর, জর্ডান, সউদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।
ফিলিস্তিনি নেতারা একে অপ্রত্যাশিত উসকানি বা প্ররোচনা বলে অভিহিত করেছেন। ফিলিস্তিনি বিদেশমন্ত্রক থেকে বলা হয়েছে, ‘মসজিদ চত্বরে উগ্রপন্থী মন্ত্রী বেনের প্রবেশের কড়া নিন্দা জানায় ফিলিস্তিন।আরও পড়ুন:
একই সঙ্গে এটা যুদ্ধে উস্কানি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্ররোচনা।’ আল-আকসা মসজিদে বেন গাভিরের সফরকে একটি ফন্দি হিসেবে উল্লেখ করেছেন ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাত্তায়ে। তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের বহু উগ্র ডানপন্থীর লক্ষ্য এমনই।
’ এদিকে আল-আকসা নিয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করেছে গাজার ইসলামপন্থী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। তারা বেন গাভির এই উদ্যোগকে ‘রেডলাইন’ অতিক্রম হিসেবে অভিহিত করেছে।আরও পড়ুন:
এদিকে ইসরাইলি মিডিয়া জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল নেতানিয়াহুর। কিন্তু তিনি তা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করেছেন। ইসরাইলের বিরোধী দলীয় নেতা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ সতর্ক করে বলেছেন, মসজিদ চত্বরে বেন গাভির পরিকল্পিত প্রবেশ সহিংসতার জন্ম দেবে।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র আমেরিকা। মার্কিন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, ‘একতরফা যেকোনও কর্মকাণ্ড, যাতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, তার জন্য আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, আল আকসা মসজিদ মুসলিমদের কাছে অতি পবিত্র স্থান। একইভাবে ইহুদিরাও এটিকে পবিত্র বলে ভাবে। তাদের কাছে এটি পরিচিত টেম্পল মাউন্ট হিসেবে। তারা মনে করে, তাদের জন্য এই স্থানটি এতটাই পবিত্র যে, সেখানে তাদের প্রবেশ করতেই হবে। কিন্তু মঙ্গলবার এই আল আকসায় প্রবেশের কারণে বেন গাভির কড়া সমালোচনা করেছেন ইসরাইলের প্রধান রাবি ইসহাক। তিনি বলেন, যখন জনগণ দেখবে একজন মন্ত্রী ক্যাবিনেটের নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন, তখন সাধারণ মানুষ কী করবে?