৩০ নভেম্বর ২০২৫, রবিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সতর্ক করলেন মুসলিম বিদ্বজ্জনেরা

Waqf Bill : ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দলগুলির আসল রূপ দেখার সময়

ইমামা খাতুন
  • আপডেট : ২ এপ্রিল ২০২৫, বুধবার
  • / 567

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক:  বিশিষ্ট মুসলিম ব্যক্তিরা দিল্লির হান্ডিওয়ালি মসজিদে মঙ্গলবার সমবেত হয়ে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলিকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই দলগুলির ওয়াকফ সংশোধনী বিল (Waqf Bill), ২০২৪-এর বিরোধিতা করা উচিত। তাঁরা বলেছেন, এই বিল ওয়াকফ সম্পত্তি “আত্মসাৎ” করার একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ।

এই বিল নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় নেতারা একে “মুসলিমদের অধিকারের উপর আঘাত” হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে।

আরও পড়ুন: ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে উত্তাপের মাঝে শান্তির বার্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

রাজা অ্যাকাডেমির প্রধান মুহম্মদ সাইদ নূরি এক ভাষণে বলেন, “এই ওয়াকফ বিল (Waqf Bill) সংস্কারের জন্য নয়, বরং আমাদের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার জন্য আনা হয়েছে। এটি অসাংবিধানি এবং আমাদের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।” তিনি আরও বলেন, “নীতীশ কুমার, চন্দ্রবাবু নাইডু, চিরাগ পাসওয়ান—সকল ধর্মনিরপেক্ষ নেতাদের এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই হবে। তাঁরা যদি না দাঁড়ান, ঠিক সময়ে মুসলিমরা তাঁদের শিক্ষা দিয়ে দেবেন।”

আরও পড়ুন: রাজসভাতেও পাশ Waqf Amendment Bill

আরও পড়ুন: সংসদে Waqf Bill নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ অখিলেশের

আরও পড়ুন: Waqf Bill-এর বিরুদ্ধে আদালতে যাবে Muslim Personal Law Board

মুসলিম বিদ্বজ্জনেরা অভিযোগ তুলেছেন, মোদি সরকার “ব্রিটিশ যুগের নীতি” অনুসরণ করছে। ঈদের সময়ে রেশনে কাটছাঁট এবং প্রস্তাবিত ওয়াকফ সংস্কারের (Waqf Bill) কথা উল্লেখ করেছেন তাঁরা। হান্ডিওয়ালা মসজিদের ইমাম মাওলানা ইজাজ আহমেদ কাশ্মীরি বলেছেন, “ওয়াকফের জমি আমাদের পূর্বপুরুষদের ট্রাস্ট—একে রক্ষা করার জন্য আমরা সব কিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত। প্রথমে তাঁরা আমাদের খাবার ছিনিয়ে নিয়েছেন, এখন আমাদের জমি চাই তাঁদের। এটাই কি ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’?”

এই সভায় বলা হয়েছে, যে সকল রাজনৈতিক দল নিজেদের সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি বলে দাবি করে, এই বিল তাদের জন্য লিটমাস পরীক্ষা। মুফতি সুলতান রাজা সতর্ক করেছেন, “মুসলিমদের ভোট নিয়ে যাঁরা ফায়দা তোলেন, তাঁদের এখন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের প্রমাণ দিতে হবে।“ মাওলানা তাহির-উল-ক্বাদরি যোগ করেন, “ভণ্ডামিকে ক্ষমা করা হবে না। মুসলিমরা এই বিশ্বাসঘাতকতা মনে রাখবেন।”

আরও পড়ুন: লোকসভায় পেশ WAQF BILL

তেহরিক দরুদ ওয়া সালামের মাওলানা আব্বাস রিজভি “সংবিধানকে রক্ষা করতে” ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। অন্য দিকে, মাওলানা নিজামুদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখন আমরা তাঁদের আসল রূপ দেখব।”

মাওলানা ইজাজ আল-কামার ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলেন, “জমির প্রকৃত মালিক আল্লাহ—এই বিল তা ছিনতাই করতে চাইছে।”

ওয়াকফ সংশোধনী বিল (Waqf Bill), ২০২৪ নিয়ে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। এই বিল যদি পাশ হয় তাহলে দেশজোড়া বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন মুসলিম বিদ্বজ্জনেরা। নূরি সতর্ক করেছেন, “মোদি সরকার, জেনে রাখো—আমাদের অধিকার আমরা সমর্পণ করব না।”

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সতর্ক করলেন মুসলিম বিদ্বজ্জনেরা

Waqf Bill : ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দলগুলির আসল রূপ দেখার সময়

আপডেট : ২ এপ্রিল ২০২৫, বুধবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক:  বিশিষ্ট মুসলিম ব্যক্তিরা দিল্লির হান্ডিওয়ালি মসজিদে মঙ্গলবার সমবেত হয়ে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলিকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই দলগুলির ওয়াকফ সংশোধনী বিল (Waqf Bill), ২০২৪-এর বিরোধিতা করা উচিত। তাঁরা বলেছেন, এই বিল ওয়াকফ সম্পত্তি “আত্মসাৎ” করার একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ।

এই বিল নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় নেতারা একে “মুসলিমদের অধিকারের উপর আঘাত” হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে।

আরও পড়ুন: ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে উত্তাপের মাঝে শান্তির বার্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

রাজা অ্যাকাডেমির প্রধান মুহম্মদ সাইদ নূরি এক ভাষণে বলেন, “এই ওয়াকফ বিল (Waqf Bill) সংস্কারের জন্য নয়, বরং আমাদের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার জন্য আনা হয়েছে। এটি অসাংবিধানি এবং আমাদের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।” তিনি আরও বলেন, “নীতীশ কুমার, চন্দ্রবাবু নাইডু, চিরাগ পাসওয়ান—সকল ধর্মনিরপেক্ষ নেতাদের এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই হবে। তাঁরা যদি না দাঁড়ান, ঠিক সময়ে মুসলিমরা তাঁদের শিক্ষা দিয়ে দেবেন।”

আরও পড়ুন: রাজসভাতেও পাশ Waqf Amendment Bill

আরও পড়ুন: সংসদে Waqf Bill নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ অখিলেশের

আরও পড়ুন: Waqf Bill-এর বিরুদ্ধে আদালতে যাবে Muslim Personal Law Board

মুসলিম বিদ্বজ্জনেরা অভিযোগ তুলেছেন, মোদি সরকার “ব্রিটিশ যুগের নীতি” অনুসরণ করছে। ঈদের সময়ে রেশনে কাটছাঁট এবং প্রস্তাবিত ওয়াকফ সংস্কারের (Waqf Bill) কথা উল্লেখ করেছেন তাঁরা। হান্ডিওয়ালা মসজিদের ইমাম মাওলানা ইজাজ আহমেদ কাশ্মীরি বলেছেন, “ওয়াকফের জমি আমাদের পূর্বপুরুষদের ট্রাস্ট—একে রক্ষা করার জন্য আমরা সব কিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত। প্রথমে তাঁরা আমাদের খাবার ছিনিয়ে নিয়েছেন, এখন আমাদের জমি চাই তাঁদের। এটাই কি ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’?”

এই সভায় বলা হয়েছে, যে সকল রাজনৈতিক দল নিজেদের সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি বলে দাবি করে, এই বিল তাদের জন্য লিটমাস পরীক্ষা। মুফতি সুলতান রাজা সতর্ক করেছেন, “মুসলিমদের ভোট নিয়ে যাঁরা ফায়দা তোলেন, তাঁদের এখন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের প্রমাণ দিতে হবে।“ মাওলানা তাহির-উল-ক্বাদরি যোগ করেন, “ভণ্ডামিকে ক্ষমা করা হবে না। মুসলিমরা এই বিশ্বাসঘাতকতা মনে রাখবেন।”

আরও পড়ুন: লোকসভায় পেশ WAQF BILL

তেহরিক দরুদ ওয়া সালামের মাওলানা আব্বাস রিজভি “সংবিধানকে রক্ষা করতে” ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। অন্য দিকে, মাওলানা নিজামুদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখন আমরা তাঁদের আসল রূপ দেখব।”

মাওলানা ইজাজ আল-কামার ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলেন, “জমির প্রকৃত মালিক আল্লাহ—এই বিল তা ছিনতাই করতে চাইছে।”

ওয়াকফ সংশোধনী বিল (Waqf Bill), ২০২৪ নিয়ে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। এই বিল যদি পাশ হয় তাহলে দেশজোড়া বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন মুসলিম বিদ্বজ্জনেরা। নূরি সতর্ক করেছেন, “মোদি সরকার, জেনে রাখো—আমাদের অধিকার আমরা সমর্পণ করব না।”