পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: শান্তিতে নোবেল পেতে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একাধিক তোষামোদকারীও পেয়েছেন সেইভাবেই। যারা তাঁকে নোবেল পাইয়ে দিতে সওয়াল করেছেন নোবেল কমিটির কাছে। তবে ট্রাম্পের সেই নোবেল পাওয়ার রাস্তায় এবার বাঁধা হয়ে দাঁড়াল কেরল। নোবেল কমিটির কাছে চিঠি লিখে কেরলবাসীর আর্জি, বাণিজ্য অস্ত্র ব্যবহার করে বিশ্বে শান্তির পথে জগদ্দল পাথর হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। ফলে কোনওভাবেই তিনি শান্তির নোবেল পাওয়ার জন্য যোগ্য ব্যক্তি নন।

নোবেল কমিটিকে চিঠি লিখে কেরলের তরফে জানানো হয়েছে, হাতেগুণে কটা যুদ্ধ ট্রাম্প থামিয়েছে তা বলার অবকাশ থাকে না। তিনি ৬ থেকে ৭ টি যুদ্ধ থামিয়েছেন কি না তা নিয়ে বিতর্ক বা মূল্যায়ন করাও আমাদের অভিপ্রায় নয়। তবে নতুন করে আমেরিকার মসনদে বসে একের পর এক দেশে যে একপাক্ষিক শুল্ক চাপিয়ে গেছে তা ভয়াবহ। তাঁর বাণিজ্য নীতি বিশ্ব শান্তির পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে বসার পর গোটা বিশ্বের উপর লাগামছাড়া শুল্ক চাপানো শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারত-চিন তো বটেই তাঁর কোপ থেকে রেহাই পায়নি কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলি।

‘মুক্ত বাণিজ্য যে কোনও দেশের শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশে শান্তি আনার লক্ষ্যে বাণিজ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বিশ্ব দেখেছে দুটি বিশ্বযুদ্ধে বিরাট ক্ষয়ক্ষতির পর। এরপরই তৈরি হয়েছিল বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা।’

এদিকে ‘ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি করছে। এর জেরে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে কেরল সহ গোটা দেশ। কেরলের বাণিজ্য বিরাট ক্ষতির মুখে।

এই শুল্ক রাজ্যের শিল্প ও তার সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করছে।

বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। ট্রাম্পের কোপে পড়ে কেরলের কাজু শ্রমিকদের পেটের ভাত মারা গিয়েছে। সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানিও কার্যত বন্ধ হয়েছে। বিপুল সংখ্যায় শ্রমিকরা রোজগার হারিয়েছেন। এরপরেও কি ভাবে ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেল দেওয়া যায়? যেখানে সে একাধিক দেশের গরীব মানুষের শান্তি কেড়ে নিতে আগ্রাসী হয়ে উঠছে?