পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: কর্নাটকে ভোটের দামামা বেজে গেছে। আগামী ১০ মে সেখানে ভোট। তার জেরে দক্ষিণের রাজ্যে জোর কদমে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার। বৃহস্পতিবার ম্যাঙ্গালুরু ও উডুপিতে গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান রাহুল। একই সঙ্গে কর্নাটকে কংগ্রেস ক্ষমতায়  এলে জনগণের জন্য কি কি কর্মসূচী নেওয়া হবে তারও স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন তিনি। রাহুলের প্রচারে একদিকে যেমন ছিল  কর্নাটক বিধানসভা প্রসঙ্গ, একই সঙ্গে আগামী বছর লোকসভায় বিজেপিকে হঠানোর কথাও ছিল তার গলায়।

এদিন দলীয় সমাবেশে বক্তৃতা রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, যদি কর্নাটকে তাদের সরকার ক্ষমতায় আসে তাহলে বিনামূল্যে বাস পরিষেবা পাবেন মহিলারা।  এছাড়াও ২০২৪ সালে কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার গড়লে ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেই কোটা সরিয়ে দেবেন তিনি। কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে জাতিভিত্তিক সমস্ত বর্ণের জন্য সংরক্ষণের সীমা বর্তমান ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি করবে এই কথা বলেন কর্নাটকের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামায়া  । তাঁর মন্তব্যকে সমর্থন করে এদিন রাহুল গান্ধিও বলেছেন ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে ২৪ শের  ভোটে কেন্দ্রে ক্ষমতায় এলে তারা তা তুলে দেবেন ।

কংগ্রেস জানিয়েছে , "আমরা ভোক্কালিগা বা  লিঙ্গায়াত বা অন্য কোনও সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষণ  বৃদ্ধির বিরুদ্ধে নই। আমরা তাদের জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংরক্ষণ বৃদ্ধিকে সমর্থন করি।

জনসংখ্যার ভিত্তিতে মুসলিমদের জন্য ৪ শতাংশ, ভোক্কালিগা  জন্য ২ এবং লিঙ্গায়াতের জন্য ২ শতাংশ  সংরক্ষণের বৃদ্ধির পক্ষে কংগ্রেস। অন্যদিকে জাতি শুমারির তথ্য প্রকাশ না করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেন রাহুল।

তিনি বলেন, শেষ ২০১১-১২ সালে জাতিভিত্তিক জনগণনা করেছিল  কংগ্রেসের ইউপিএ সরকার। তারপর থেকে একবারও জাতিশুমারি হয়নি। ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে কংগ্রেস দাবি করেছিল জাতিশুমারি প্রকাশ্যে আনতে হবে। যাতে দেশ জানতে পারে বর্তমানে ওবিসি, দলিত এবং উপজাতিদের জনসংখ্যা কত।

তবে তাতে কর্ণপাত করেনি বিজেপি সরকার। এদিনের সভাতে রাজ্যের মৎস্যজীবীদের সঙ্গেও কথা বলেন রাহুল।

কংগ্রেস নেতা জানান,  কংগ্রেস কর্নাটকে ক্ষমতায় এলে তাঁদের ১০ লক্ষ টাকার বিমা  ও জেলেদের ১ লক্ষ টাকা  সুদ-মুক্ত ঋণ এবং প্রতিদিন ৫০০ লিটারের জন্য ২৫ টাকা ডিজেল ভর্তুকি দেবে।  মৎস্যজীবীদের ঋণ মকুবের দাবি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে। এছাড়াও তিনি বলেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে মৎস্যজীবীদের জন্য একটি সমস্যা-সমাধান মন্ত্রক বানাবেন। যেখানে তারা তাঁদের যাবতীয় সমস্যার কথা বলতে পারবে।