পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: হায়দরাবাদের একটি বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হল শিশুসহ ১৭ জনের। শর্ট সার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রাথমিক অনুমান। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে ঐতিহাসিক চারমিনারের কাছে গুলজার হাউসের একটি বহুতলে। প্রশাসন সূত্রে খবর, আগুন লাগার পর ওই বহুতল থেকে বেরোতে পারেননি। ভবনের একটি সরু সিঁড়ি দিয়ে নিজেদের জীবন রক্ষা করেছেন কেউ কেউ। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ১৭ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়।
অ্যাপোলো হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, "আগুনে পুড়ে আহতদের বাঁচানোর অপ্রাণ চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাদের বাঁচানো যায়নি। আমাদের অ্যাম্বুলেন্স দল ক্ষতিগ্রস্থদের উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে রয়েছে। এই কঠিন সময়ে নিহতদের পরিবারকে আমরা সর্বোচ্চ সহায়তা দিচ্ছি।" তেলেঙ্গানা রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া ও দমকল পরিষেবার মহাপরিচালক ওয়াই নাগি রেড্ডি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ৬টা থেকে ৬.১৫ মিনিটের মধ্যে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।আরও পড়ুন:
হায়দারাবাদে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মৃতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।
এক্স বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, "তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদে এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জীবনহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি সমবেদনা। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। পিএমএনআরএফ থেকে মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।"আরও পড়ুন:
রাজ্য পুলিশের ডিজি জিতেন্দ্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশু ও মহিলাসহ ১৭ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
যদিও তাদের মৃত্যু হয়েছে। সামান্য ধোঁয়া থাকলেও আগুন পুরোপুরি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ভবনটির নিচতলায় গয়নার দোকান ছিল এবং উপরের তলায় একটি ফ্ল্যাটে লোকজন থাকতেন। হঠাৎ শর্ট সার্কিট আগুনের ধোঁয়া উপরের তলায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বাসিন্দাদের দম বন্ধ হয়ে আসে। তেলেঙ্গানার দমকল বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তিনতলা ভবনের নিচতলায় আগুন লাগে এবং তা উপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। একযোগে অগ্নিনির্বাপণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো হয় এবং প্রথম তলায় আটকে পড়া ১৭ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এবিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। ভবনে আটকে পড়াদের উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।