https://youtu.be/MCDdreS3JTg
আরও পড়ুন:
পুবের কলম প্রতিবেদকঃ শনিবার রাজারহাট-নিউটাউনের মাঝেরআইট পীরডাঙ্গা বিএফজে সিনিয়র মাদ্রাসায় ২০২২ সালের হজযাত্রীদের হজ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। মাসে চারদিন করে তিন মাসে মোট ১২ দিন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। শনিবার ছিল প্রশিক্ষণের শেষ দিন। এদিনের প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন পুবের কলম-এর সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান। ছিলেন উত্তর ২৪ পরগণার বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ, মাঝেরআইট দরবার শরীফের মুখ্য নির্দেশক, মাঝেরআইট সিনিয়র মাদ্রাসার কার্যকরী সভাপতি এবং হজ প্রশিক্ষণ শিবিরের মুখ্য উদ্যোক্তা এ কে এম ফারহাদ, পীরজাদা রাকিবুল আজিজ, পশ্চিমবঙ্গ হজ কমিটির আধিকারিক মুহাম্মদ নকি, আয়ুব আলি মোল্লা, সৈয়দ নাইয়ার ইকবাল হাসমি প্রমুখ।
আরও পড়ুন:
এদিনের প্রশিক্ষণ শিবিরে হজযাত্রীদের উদ্দেশ্যে আহমদ হাসান বলেন, এ রাজ্য থেকে বহু মানুষ হজে যাচ্ছেন। পুরুষদের পাশাপাশি মেয়েরাও বড় সংখ্যায় হজে সামিল হচ্ছেন। আল্লাহ্ বলেছেন, নারী বা পুরুষ যে অনুপরিমাণ ভালো কাজ করবে তার সওয়াব পাবে। আর মন্দ কাজে পাবে সমান শাস্তি।
যাদের সামর্থ আছে, তারা অবশ্যই হজে যাবেন। হজ হচ্ছে এক বিশ্ব সম্মেলন। বিভিন্ন দেশ থেকে ভিন্ন বর্ণের, ভিন্ন ভাষার, লাল-সাদা-কালো বর্ণের মানুষরা হজে সমবেত হন। আহমদ হাসান ইমরানের পরামর্শ, হজের দিনগুলিতে আল্লাহ’র ইবাদতে মশগুল থাকতে হবে। দোকান, বড় বড় মল বা চাকচিক্যে’র দিকে বেশি নজর না দিয়ে এবাদতে মগ্ন থাকতে হবে। কোনও মানুষ সমস্যায় পড়লে তাদের সহায়তা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, হজ হল আল্লাহর অভিমুখে এক বিশেষ যাত্রা। হজের মাধ্যমে আল্লাহ সব গোনাহ মাফ করতে পারেন। মক্কায় এখন হজের পরিবেশ আগের মতো নেই। মক্কার হজ-স্থলের পরিবেশ এখন বদলে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সউদি শাসকরা ‘পবিত্র ঘর কাবা’র- পাশেই বহুতল বিশিষ্ট হোটেল বানাচ্ছে, যেমন ক্লক টাওয়ার হোটেল। কাবা শরীফে নজর পড়ার আগে এই ক্লাক টাওয়ারের দিকে আপনার নজর পড়বে।আরও পড়ুন:
হজের গুরুত্ব উল্লেখ করে আহমদ হাসান ইমরানের বক্তব্য, হজ হল বিশ্বের মুসলিমদের একত্রিত সমাবেশ, যা ইসলাম ছাড়া অন্য কোনও ধর্মের মধ্যে নেই। এ রাজ্যে হজে ১৭ হাজারের কিছু বেশি কোটা রয়েছে। কিন্তু মাত্র ৯-১০ হাজারের মুসলিম হজে যান। মণিপুর, অসম, ত্রিপুরায় হজের কোটা পূরণ হয়ে যায়, সেখানে এ রাজ্যে হজের কোটা পূরণ হচ্ছে না। তাই রাজ্যের মুসলিমদের হজ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
এদিন হজ কমিটির আধিকারিক মুহাম্মদ নকি হজযাত্রীদের কী করতে হবে, কী করতে হবে না, সেই নিয়ে একগুচ্ছ ‘টিপস’ দেন।
পীরজাদা এ কে এম ফারহাদ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ রাজ্যের হজযাত্রীদের জন্য সব রকম সুবিধা করেছেন। তাঁদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য হজ কমিটি নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ রাজ্যের হজ পরিষেবা ভারতের মধ্যে একটি মডেল। প্রশিক্ষণ শিবিরে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন হজ কমিটির সদস্য পীরজাদা রাকিবুল আজিজ, পীরজাদা মাসুম বক্তিয়ারি, আবদুল মোহিত, পীরজাদা আকতার বক্তিয়ারি, জনাব আইনুল, ইব্রাহিম লস্কর, মুহাম্মদ আলিম প্রমুখ। উপস্থিত প্রখ্যাত আলেমরা মহিলা -পুরুষসহ একশো জন হজযাত্রীকে প্রশিক্ষণ দেন। এদিন হজযাত্রীদের উপস্থিতিতে দোওয়া মজলিসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়।উল্লেখ্য, আলহাজ্ব পীর মাওলানা মাহমুদ বাখত বাখতায়ারী ১৯৮০ সালে মাঝেরআইট পীরডাঙা বিএফজে সিনিয়র মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা করেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে এই মাদ্রাসাটি এমএসকে মাদ্রাসায় পরিণত হয়। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে প্রায় সাড়ে ছ’শো পড়ুয়া রয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা ২০ জন। এই মাদ্রাসায় প্রতি বছর হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।