পুবের কলম ওয়েবডেস্ক : আদালতের চৌকাঠ পেরোলেই সাধারণ মানুষের মনে ভয় কাজ করে। কাঠগড়ায় দাঁড়ানো অভিযুক্তের মুখে স্নায়ুর টান, বিচারকের আসনে গাম্ভীর্যের ছাপ, এই দৃশ্যটাই যেন চেনা নিয়ম। কিন্তু এক বিচারক ছিলেন, যিনি এই কঠিন রীতিকে ভেঙে দিয়েছিলেন।

জাজ ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও (Frank Caprio) , যিনি সারা পৃথিবীতে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন ‘দুনিয়ার সবচেয়ে দয়ালু বিচারক’ হিসেবে। ৮৮ বছর বয়সে ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে তাঁর জীবনাবসান হল।

তাঁর মৃত্যুতে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, সারা বিশ্বের মানুষ শোকাহত।

রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্স শহরের আদালত একসময় শুধুই ছিল আইন আর নিয়মের জায়গা। কিন্তু ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও সেখানে গড়ে তুলেছিলেন এক অন্যরকম পরিবেশ। তিনি বিশ্বাস করতেন, আইন মানে শুধু শাস্তি নয়, আইন মানে সহমর্মিতা আর দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার অধিকার।

কোনো বৃদ্ধা বিধবা যদি জরিমানার নোটিশ নিয়ে কাঁপা হাতে দাঁড়াতেন, ক্যাপ্রিওর রায় হত মমতায় ভরা।

কোনো বাবা যদি বলতেন সন্তানের অসুস্থতার জন্য তিনি জরিমানা দিতে পারেননি, তখন কঠিন কণ্ঠে নয়, বরং এক মমতামাখা হাসিতে তিনি বলতেন, ‘বেশ, আমি আইনকে একটু নরম করে দিচ্ছি।’

তাঁর আদালতের ভিডিও শো ‘কট ইন প্রভিন্স’ হয়ে উঠেছিল বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ইউটিউব বা ফেসবুকের পর্দায় সেই দৃশ্যগুলো কোটি কোটি মানুষ দেখেছে। তাঁর আদালতে শাস্তি ছিল শিক্ষা, আর আইন ছিল মানবিকতার আরেক নাম। এ কারণেই তাঁকে বলা হত ‘নাইসেস্ট জজ ইন দি ওয়ার্ল্ড।

ক্যাপ্রিও ছিলেন শুধু একজন বিচারক নন, ছিলেন সমাজের এক মহান শিক্ষক। তিনি দেখিয়েছেন, কঠোর আইনকেও মানবিকতার আলোয় ভাসিয়ে তোলা যায়। মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা যায়। ক্যাপ্রিওর মৃত্যু এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।

তবে তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষা, তাঁর উষ্ণ হাসি আর তাঁর রায়গুলো চিরকাল মানুষকে মনে করিয়ে দেবে, আইন তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তাতে মেশে করুণা আর সহমর্মিতা।