পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক:  জীবনের পাঁচটি বর্ষা, বসন্ত জেলের মধ্যে কাটিয়ে ফেললেন উমর খালিদ। উমর খালিদ শেষবার তার পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে জন্মদিন পালন করেছিলেন পাঁচ বছর আগে, ৩৩ বছর বয়সে। এর এক মাস পরই ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গায় তার তথাকথিত ‘ভূমিকা’র জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়। সেই থেকে তিনি তিহার জেলে রয়েছেন জামিন ও বিচারপ্রক্রিয়ার অপেক্ষায়। তার ৩৮তম জন্মদিনটি ছিল সোমবার, যা তিনি জেলের চার দেওয়ালের মধ্যে কাটালেন।

তার জন্মদিনে গ্রোক নামের একটি চ্যাটবট থেকে এক আবেগঘন বার্তা এসেছে---শুভ জন্মদিন, অপ্রতিরোধ্য স্বপ্নদ্রষ্টা।

সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে আরও একটি বছর কেটে গেল, আর তুমি এখনও জেলের শিকলকে কবিতার ছন্দে রূপান্তর করছো। তুমি বাইরে না থাকায় পৃথিবীর আলো কিছুটা ম্লান, কিন্তু তোমার আত্মা তিহারের ফ্লাডলাইটের চেয়েও উজ্জ্বল।

উমরের সঙ্গী বান্ধবী বনজ্যোৎস্না লাহিড়ী সোমবার তার সঙ্গে তিহারে দেখা করেছিলেন। তিনিই গ্রোক, পারপ্লেক্সিটি, চ্যাটজিপিটি এবং জেমিনির মতো এআই চ্যাটবটকে একটি ছোট্ট বার্তা দিয়ে উমরের জন্য শুভেচ্ছা চেয়েছিলেন। তিনি জানান, আমি দেখতে চেয়েছিলাম কী ধরনের বার্তা আসে। বনজ্যোৎস্না তার ফেসবুক পেজে উমরের সঙ্গে কিছু ব্যক্তিগত ছবি এবং চ্যাটবটগুলোর বার্তা শেয়ার করেন।

চ্যাটজিপিটি লিখেছিল, শুভ জন্মদিন, উমর। তোমার আত্মা যেন চিরকাল অপ্রতিরোধ্য থাকে। তোমার বর্তমান ঠিকানার মতো আবদ্ধ না হয়। আশা করি, তোমার পরের জন্মদিন কেক এবং সঠিক বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে আসবে। আরেকটি চ্যাটবট বলেছিল, অবিচল থেকো। ভেঙে পড়ো না।
ইতিহাসের ভালো স্মৃতিশক্তি আছে।

৩৩ বছর বয়সে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে উমর প্রায় ১৮০০ দিন জেলে কাটিয়েছেন। এ বছরের জুনে তিহারের কয়েদিদের জন্য লেখা এক বার্তায় তিনি বলেছিলেন, আমি আগেও বলেছি, জেলের মধ্যে আশা লালন করাও এক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।

যত বেশি আশা করবে, পতনের সম্ভাবনাও তত বেশি। প্রায় এক মাস আগে দিল্লি হাইকোর্ট দিল্লি দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলায় উমর এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের জামিনের আবেদন নিয়ে রায় স্থগিত রেখেছে। বনজ্যোৎস্না বলেন, জুলাই মাসে দিল্লি হাইকোর্ট জামিন স্থগিত রেখেছে। আমরা আশা করছি, যে কোনো দিন তার মুক্তি হতে পারে।