পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারের অগ্নিপথ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে আঁচে জ্বলছে গোটা দেশ। একাধিক জায়গায় ট্রেনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলছে। এই নিয়ে আজ তিনদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। বয়ঃসীমা বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ ক্রমশই হিংসাত্মক আকার নিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। বিক্ষোভের আঁচে জ্বলছে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, হরিয়ানা, সমস্তিপুর, রাজস্থান সহ একাধিক রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গেও এই বিক্ষোভের আঁচ পড়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে চলে ট্রেন অবরোধ।
প্রায় দু ঘন্টা ধরে চলে অবরোধ। শিলিগুড়িতে চলছে বিক্ষোভ।আরও পড়ুন:

ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে ৩৫টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, ১৩টি ট্রেনের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। ঘটনায় প্রভাব পড়েছে ২০০ ট্রেনের উপর প্রভাব পড়েছে।
আরও পড়ুন:
বিহারের সমস্তিপুরে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা জম্মু-তাওয়াই গুয়াহাটি এক্সপ্রেসে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী ৬টি বগি পুড়ে গেছে। তবে হতা-হতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও হামলায় যোগ দেন।
অন্যদিকে বিহারের সমস্তিপুরের বেগুসরাই স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ৪ টি কামরায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তেলেঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদ স্টেশনেও বিক্ষোভ চরম আকার নেয়। রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। পাশাপাশি ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। লখিসরাই স্টেশনে বিক্রমশীলা এক্সপ্রেসের তিনটি বগিতে আগুন লাগানো হয়েছিলআরও পড়ুন:
মঙ্গলবারই ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের ঘোষণা করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। দু’বছর ধরে দেশে সেনা নিয়োগ বন্ধ। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে দেড় লক্ষ শূন্যপদ রয়েছে।
এই প্রকল্পে নিযুক্ত জওয়ানদের বলা হবে ‘অগ্নিবীর’। এতে সুযোগ পাওয়া জওয়ানরা ৪ বছর কাজ করতে পারবেন৷ মেয়াদ শেষে মোট নিয়োগের ২৫ শতাংশকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে৷ বাকিদের চুক্তি শেষ হবে অর্থাৎ তাঁরা আর চাকরিতে বহাল থাকবেন না৷ এর জন্য কোনও পেনশনও পাবেন না জওয়ানরা৷ উল্টে বেতন থেকে কিছু টাকাও কেটে নেওয়া হবে৷ মেয়াদ শেষে 'সেবা নিধি' প্রকল্পের আওতায় নগদ টাকা তুলে দেওয়া হবে জওয়ানের হাতে৷ সব মিলিয়ে এই চাকরি চুক্তিভিত্তিক এবং স্বল্পমেয়াদি৷আরও পড়ুন:
নতুন প্রকল্পে বছরে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার ‘অগ্নিবীর’ নিয়োগ হবে। বর্তমানে দেশের সেনাবাহিনীতে জওয়ানের সংখ্যা ১৩ লক্ষেরও বেশি। নতুন প্রকল্পে সেখানে বছরে নিয়োগ হবে মাত্র ১২ হাজার জওয়ান। বছরে দু’বার নিয়োগ হলে, সংখ্যাটা দাঁড়াবে ২৪ হাজার।
আরও পড়ুন:
দু'বছর বাদে ২০২২-এই নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমে প্রার্থীদের বয়স ছিল ১৭-২১ বছর পর্যন্ত। পরে লাগাতার আন্দোলনের ফলে বৃহস্পতিবার মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ২১ থেকে ২৩ বছর করার কথা জানায়৷ এর পরেই শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। যা ক্রমশ হিংসাত্মক আকার নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: