কৌশিক সালুই, বীরভূমঃ এ যেন বারুদের স্তূপে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই শহর । বাঁশঝোর কান্ডের পর সাঁইথিয়া  থানা  এলাকায়, গ্রাম দখলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক  বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে ।  সোমবার বিকেলে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বলেই জানা গেছে।  ঘটনায় এক যুবকের পা উড়ে গিয়েছে। গুরুতরা জখম আরও এক নাবালক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে  এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এদিনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজনকে  গ্রেফতার করা  হয়েছে।

পাশাপাশি বিপুল পরিমাণে দেশি বোমা উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, সাদ্দাম হোসেন  নামে এক যুবকের পা উড়ে গিয়েছে। মুজাফফর হোসেন নামের এক নাবালক বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ফুলুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বহরাপুর বলাইচন্ডী গ্রামে। এদিন পূর্ব বিবাদের জেরে ফাইজুল হোসেনকে বাতাসপুর রেল স্টেশন এলাকা থেকে ফেরার সময় অপরগোষ্ঠীর লোকজন মারধর করছিল বলে অভিযোগ।

তাকে বাঁচাতে গিয়ে ভাইপো সাদ্দাম হোসেনে এবং নাবালক ছেলে মোজাফফর হোসেন তাদের হাতে আক্রান্ত হন। বোমার আঘাতে পা উড়ে যায় সাদ্দামের।

ছেলের ও গুরুতর চোট লাগে।

আক্রান্তদের প্রথমে সাঁইথিয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হলে  সেখান থেকে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় পরে তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে দুইজনকেই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। এদিকে ঘটনার পর থেকে ফাইজুল হোসেনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি পরিবারের। সপ্তাহ দুয়েক আগে সিউড়ির বাঁশঝোর গ্রামে এক যুবকের মৃত্যুর পর ব্যাপক বোমাবাজি হয়। ঘটনা রাত্রে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সিউড়িতে উপস্থিত ছিলেন। তারপর তিনি কড়া হাতে প্রশাসনকে বিষয়টি দমন  করার নির্দেশ দেন। তারপর ফের এদিন এই বোমাবাজির ঘটনা।

ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে এগিয়ে আসতেই দুষ্কৃতীদের এলাকা দখল কে কেন্দ্র করে বোমা ভারতের কারবার ও রাজনীতি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ বিভিন্ন মহলের। আক্রান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে শেখ মহম্মদ আলী বলেন,"পূর্ব বিবাদের জেরে আমার ভাইকে কিছু দুষ্কৃতী মারধর করছিল। ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে আমার ছেলের পা উড়ে গিয়েছে। নাবালক ভাইপো গুরুতর জখম। ভাইয়ের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না"।

বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী বলেন,"ওই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত সাত দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকা জুড়ে বাকিদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি শুরু হয়েছে। বেশ কিছু দেশি বোমা উদ্ধার হয়েছে। এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনীর মোতায়েনে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।