পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার পদ্ম শিবিরের জোর ধাক্কা। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বার্লা (John Barla)। ছাব্বিশের ভোটের আগে এই যোগদান বিজেপির কাছে যথেষ্ট দুশ্চিন্তার। এদিন তৃণমূল ভবনে তাঁর যোগদানের সময় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস প্রমুখ।
আরও পড়ুন:
দলে যোগদান করেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বারলা। একই সঙ্গে বিজেপিকেও তুলোধনা করলেন। তাঁর কথায়, বাংলার উন্নয়ন করতে পদে পদে বাধা দিতেন শুভেন্দুসহ বাংলার বিজেপি নেতৃত্ব। বাংলার 'দিদি' মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জন বারলা, আদিবাসীদের অধিকার দেওয়ার জন্য।
শ্রমিকদের জমির পাট্টা বিতরণের জন্য।আরও পড়ুন:
এদিন একের পর এক উদাহরণ তুলে বিজেপিকে নিশানা করে জন বার্লা (John Barla) বলেন, আমি চেয়েছিলাম চা বাগান নিয়ে কাজ করতে। মন্ত্রী হয়ে কাজ করতে গিয়ে সব সময় বাধা পেয়েছি। রেলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ১৬০ কোটি টাকার হাসপাতাল তৈরি করতে চেয়েছিলাম। জমিও চিহ্নিত করা হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাধায় কোন কাজ করতে পারিনি।
আরও পড়ুন:
বার্লা প্রশ্ন তোলেন, কেন সেই দল করবো, যেই দল আমাকে কাজ করতে বাধা দেয়? আমার দল আমাকে অপমান করেছে।
উন্নয়নের কাজ করতে দিত না। দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন সেই সম্মান বিজেপি কোনদিনও আমাকে দেয়নি।আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার জন বার্লা (John Barla) আদিবাসী উন্নয়ন ও চা বাগানের শ্রমিকদের জমির পাট্টা দেওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানান। বলেন, ২০০৭ সাল থেকে চা বাগানের জন্য লড়াই করছে শ্রমিকরা, কিন্তু কিছু পায়নি। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় আসার পর চা বাগানের জন্য অনেক কিছু করেছেন। জমির পাট্টাও দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
এদিন অসমে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রসঙ্গ তুলে বার্লা বলেন, অসমে পাঁচ লক্ষ চা বাগান শ্রমিক। সেখানে ডাবল ইঞ্জিন সরকার।
কিন্ত ১ ইঞ্চি জমিও কেউ পায়নি। কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার চা বাগানের কথা ওঠে না বলেও অভিযোগ করেন জন বারলা। তৃণমূলে সদ্য যোগ দেওয়া বারলার কথায়, উত্তরবঙ্গের মানুষের সঙ্গে বিজেপি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সবচেয়ে বেশি অবহেলিত চা বাগানের মানুষরা।আরও পড়ুন:
এরপরেই শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করে জন বার্লা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হতে চান শুভেন্দু অধিকারী। এই কারণে রাজ্যের সব উন্নয়নে বাধা দিয়ে বিরোধিতা করছেন। বারলার কথায় বিজেপির কোনও উন্নয়নমূলক প্রকল্প নেই, যা দেখে লোকে বিজেপিতে আসবে। বিজেপি আদিবাসীদের বিভাজন করতে চাইছে। বিভাজনের রাজনীতি করে বাংলার ক্ষতি করতে চাইছে।
আরও পড়ুন:
এদিন জন বারলা বলেন, ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখার পেছনে বঙ্গ বিজেপির ষড়যন্ত্রের তথ্য প্রমাণ তাঁর কাছে আছে। আগামী দিনে সেসব তিনি প্রকাশ্যে আনবেন।