পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, তমলুক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে বিজেপিতে ভাঙনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নন্দীগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপি সদস্য মধুশ্রী দাস মাইতি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তার হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায় ও হলদিয়ার বিধায়িকা তাপসী মণ্ডল। যোগদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের নন্দীগ্রাম-২ ব্লক কোর কমিটির কনভেনার সুনীল জানা ও বিরুলিয়া অঞ্চল সভাপতি অরুণাভ ভুঁইয়া-সহ অন্যান্য নেতারা।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে নন্দীগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির ২১টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১৪টি এবং তৃণমূল ৭টি আসনে জয়ী হয়।

মধুশ্রী দাস মাইতি বিরুলিয়া পঞ্চায়েত এলাকার ৮টি বুথ থেকে জয়ী হয়ে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা হয়েছিলেন। ওই বিরুলিয়া পঞ্চায়েতও বর্তমানে বিজেপির দখলে রয়েছে, তবে বিজেপির দখলে থাকা সত্ত্বেও এলাকায় প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি করেছেন মধুশ্রী। সেই কারণে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে তিনি শাসকদলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

২০২৫ সালে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে উপভোক্তা বাছাই নিয়ে বিরুলিয়া এলাকায় বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছিল। এই নিয়ে ব্লক প্রশাসনের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে এবং পরে বেশ কয়েকটি বাড়িতে পুনরায় যাচাইও করা হয়।

 

তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজিত রায় অভিযোগ করেন, বিরুলিয়ায় পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের অনেকেই ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন। অথচ প্রকৃত গরিব মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তার দাবি, নন্দীগ্রাম জুড়ে দুর্নীতি ও বঞ্চনার অভিযোগে বহু মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে তৃণমূলে যোগ দিতে চাইছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলে যোগ দিয়ে মধুশ্রী বলেন, ‘উন্নয়নের অনেক কাজ এখনও বাকি। পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি সেদিকে সেভাবে নজর দিচ্ছে না, তাই নিজের নির্বাচিত এলাকায় উন্নয়নের স্বার্থে তৃণমূলে যোগ দিলাম।’