পুবের কলম প্রতিবেদক, বসিরহাট: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। সেখানে সন্দেহভাজন ভোটার হিসাবে ৬০ লক্ষের বেশি মানুষকে ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছে। তাদের ভোটাধিকার থাকবে কিনা, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। ফলে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা ‘বিচারাধীন’ ভোটার নিয়ে রাজ্যে তোলপাড় পরিস্থিতি। বিপুল সংখ্যক মানুষ ভয় এবং চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। এরই মাঝে ফের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে।

  সূত্রের খবর, ভোটার তালিকায় নিজের নাম ‘বিচারাধীন’ এবং দুই ছেলের নাম ‘ডিলিট’ হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আত্মহত্যা করলেন এক প্রৌঢ়া। মৃতের নাম বাদুড়িয়ার পশ্চিম চণ্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা রীনারানি কুণ্ডু (৫০)। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তার নামের পাশে লেখা ছিল ‘বিচারাধীন’। শুধু তাই নয়, তার দুই ছেলে শুভদীপ ও সৌমেন কুণ্ডুর নাম এই তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ পড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বসবাস করলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না রীনাদেবী। পরিবারের সদস্যরা জানান, তালিকা প্রকাশের পর থেকে উৎকণ্ঠায় ছিলেন তিনি।
বার বার প্রশ্ন করতেন, ‘আমার নাম কেন বিচারাধীন হলো? আমার ছেলেদের কী হবে? তারা কি ভোট দিতে পারবে না?’ এই অনিশ্চয়তা তাকে মানসিকভাবে ভীষণভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। 

 জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে সমস্যা সমাধানে বাদুড়িয়া সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দপ্তরে যান তার দুই ছেলে। সেই সময় বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় রীনারানি কুণ্ডু ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

খবর পেয়ে ছেলেরা দ্রুত বাড়ি ফিরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ‘এটা নিছক আত্মহত্যা নয়, বরং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার ত্রুটি এবং তার ফলে সৃষ্ট আতঙ্কের বলি হয়েছেন রীনাদেবী। তার মতো হাজার হাজার পরিবার এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।’

 মৃত রীনারানি কুণ্ডুর ছেলে শুভদীপ কুণ্ডু বলেন, ‘এসআইআর-এ আমাদের দুই ভাইয়ের নাম ডিলিট হয়ে গিয়েছিল আর মায়ের নামের পাশে বিচারাধীন ছিল। আমরা যে-সময় ফর্ম ৬ জমা করতে যাচ্ছিলাম সেই সময় খবর পাই উনি গলায় দড়ি দিয়েছেন। মা এসআইআর নিয়ে চিন্তায় ছিলেন, দুশ্চিন্তা থেকে আত্মঘাতী হয়েছেন হয়ত।’ রীনাদেবীর এই মৃত্যু আবারও রাজ্যের ভোটার তালিকা নিয়ে চলা বিতর্ককে আরও উসকে দিল। মা-কে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন দুই ছেলে সৌমেন ও শুভদীপ।