পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ দেশজুড়ে বাড়ছে বিদ্বেষ। সাম্প্রদায়িক হিংসা। মুসলিমদের নিশানা করে চলছে বিদ্বেষ-ভাষণ। হরিদ্বার– দিল্লির পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের ঘটনা বাড়ছে। সম্প্রতি রামনবমীকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিংসার ঘটনা ঘটেছে। দেশজুড়ে এভাবে বেড়ে চলা বিদ্বেষ ভাষণ ও সাম্প্রদায়িক হিংসার বিরুদ্ধে শনিবার একযোগে গর্জে উঠলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১৩ জন বিরোধী নেতানেত্রী। সেই তালিকায় রয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন– ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেএমএম প্রধান হেমন্ত শোরেন– কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি– এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার– আরজেডি প্রধান তেজস্বী যাদব– ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রধান ফারুক আবদুল্লাহ– সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি– সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা– ফরোয়ার্ড ব্লকের দেবব্রত বিশ্বাস– আরএসপি-র মনোজ ভট্টাচার্য– মুসলিম লিগের পি কে কুনহালিকুট্টি– সিপিআই (এমএল)-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য প্রমুখ। দেশে বল্গাহীনভাবে বেড়ে চলা সাম্প্রদায়িক হিংসা ও বিদ্বেষ ভাষণের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পাশাপাশি– এইসব ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
তাঁদের অভিযোগ– দেশে ঘৃণা ভাষণ বাড়ছে। বাড়ছে সাম্প্রদায়িক অশান্তি। অথচ– প্রধানমন্ত্রী এই নিয়ে একটি কথাও বলছেন না। নীরব রয়েছেন। দেশে ঘটে চলা এই সাম্প্রদায়িক হিংসা ও বিদ্বেষের পরিবেশের বিরুদ্ধে শনিবার ১৩ বিরোধী নেতানেত্রী একটি যৌথ বিবৃতি পেশ করেন। সেখানে এভাবেই দেশে যেভাবে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানো হচ্ছে– তার নিন্দা করা হয়েছে। নিন্দা করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়েও।আরও পড়ুন:
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে– প্রধানমন্ত্রীকে প্রায়ই দেশের বহুত্ববাদী বৈচিত্র্য– বিবিধের মধ্যে ঐক্যর মতো বিষয়গুলি নিয়ে জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য রাখতে দেখা যায়।
কিন্তু– বাস্তব সত্য হচ্ছে যে– তাঁর শাসনেই আমাদের দেশের বহুমুখী বৈচিত্র্য যা আমাদের সমাজকে শতাধী ধরে সমৃদ্ধ করে চলেছে তাকে বিকৃত করা হচ্ছে আমাদেরকে বিভক্ত করার জন্য। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে সমাজে মেরুকরণের জন্য যেভাবে খাদ্য– পোশাক– ধর্মীয় বিশ্বাস– ভাষা– উৎসব প্রভৃতি বিষয়গুলিকে ব্যবহার করছে তাতে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। যেভাবে দেশে বিদ্বেষ ভাষণের ঘটনা বাড়ছে তাতে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। যারা এইসবের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাদের প্রতি সরকার পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে মনে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার যে বিস্ফোরণ হচ্ছে আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ রিপোর্টগুলি ইঙ্গিত করছে যেখানে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে আগে থেকেই একটি অশুভ মডেল তৈরি রয়েছে। সশস্ত্র ধর্মীয় মিছিলের আগে বিদ্বেষ বত্তৃ«তা সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় উসকানি দিয়েছে।’আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে লেখা হয়েছে– ‘প্রধানমন্ত্রীর নীরবতায় আমরা মর্মাহত। যারা উগ্র ধর্মান্ধতা প্রচার করে– যাদের ঘৃণ্য ভাষণ ও কাজ আমাদের সমাজে বিদ্বেষ ও অশান্তি ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ব্যর্থ প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এই নীরবতাই প্রমাণ করে– এইসব ধর্মান্ধ উগ্রবাদীরা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার বিলাসিতা উপভোগ করছে।’
আরও পড়ুন:
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বিবৃতিতে বলা হয়েছে– ‘আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে জানাতে চাই– আমাদের দেশ তখনই সমৃদ্ধ হবে যখন বহুত্ববাদ ও বৈচিত্র্যকে পূর্ণ মাত্রায় সম্মান করা হবে। উদ্যাপন করা হবে। আমরা সমস্ত জনগণের কাছে আবেদন জানাচ্ছি– শান্তি বজায় রাখার জন্য ও যারা সাম্প্রদায়িক মেরুকরণকে তীক্ষø করতে চায় তাদের অশুভ উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করার জন্য। আমরা সমগ্র দেশে আমাদের সব ইউনিটকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য একজোট হয়ে কাজ করার আহ্বান জানাই।’
আরও পড়ুন: