মুর্শিদাবাদের লালবাগের মাটি থেকে গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে নীরবে গড়ে উঠেছে সমাজসেবা ও মানবকল্যাণের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। সেই অধ্যায়ের কেন্দ্রে রয়েছেন সমাজসেবী ও ধর্মীয় নেতা Maulana Abdur Razzaq। আর্তমানবতার পাশে দাঁড়ানো, মানুষের মধ্যে ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তোলাই তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
All India Imam Muazzin and Social Welfare Organisation-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর কর্মতৎপরতা আজ শুধু একটি সংগঠনের সীমায় আবদ্ধ নয়। বরং তা রাজ্যজুড়ে সমাজসেবা ও মানবিক উদ্যোগের এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

লালবাগের বাসিন্দা এই মানুষটি নিজের জেলার গণ্ডি পেরিয়ে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের অধিকার রক্ষা এবং তাঁদের সংগঠিত করার কাজে নিজেকে নিবেদন করেছেন।
মাওলানা আব্দুর রাজ্জাকের কর্মজীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে শিশুদের জন্য পোলিও প্রতিরোধী টিকা কর্মসূচি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকায় যেখানে অনেক সময় ভুল ধারণা ও কুসংস্কার মানুষের অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে তাঁর মতো সমাজনেতার আহ্বান মানুষের মনে আস্থা ও সচেতনতা তৈরি করে।

তাঁর ব্যক্তিত্বের আরেকটি উজ্জ্বল দিক হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার নিরলস প্রচেষ্টা। দুর্গাপূজা, মহররম, ঈদুল ফিতর, দোল কিংবা ঈদুজ্জোহা—প্রতিটি উৎসবেই তিনি মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দেন। উৎসবের দিনগুলোতে যাতে কোনো অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং সকল সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে আনন্দ ভাগ করে নিতে পারেন, সে জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করেন।
গত পনেরো বছরেরও বেশি সময় ধরে লালবাগ ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের যে পরিবেশ গড়ে উঠেছে, তার পিছনে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। প্রশাসনিক কাজে সহযোগিতা করা, সামাজিক বিরোধ মিটিয়ে দেওয়া কিংবা মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো—সব ক্ষেত্রেই মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবী ও দক্ষ সংগঠকের পরিচয় দিয়ে চলেছেন। তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টা আজ বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।