বিচারাধীন ভোটারদের অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ ঘিরে জল্পনা বাড়ছে রাজ্যে। প্রশ্ন উঠেছে, অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের আগেই কি বাংলায় নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে যাবে? রাজ্য সফরে এসে এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি শুধু জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ীই তালিকা প্রকাশ করা হবে।
তবে সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট । প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল-এর উদ্যোগে খুব শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশিত ট্রাইব্যুনাল গঠনের।
গত মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, বিচারকদের কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে—এমন কোনও পদক্ষেপ নিতে পারবে না নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে আদালত জানায়, উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি দুই বা তিনজন বিচারপতিকে নিয়ে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করবেন। বিচারাধীন ভোটারদের সংক্রান্ত সমস্ত আবেদন সেই ট্রাইব্যুনালেই করা যাবে।
বিচারকদের যাচাইয়ের পরে যদি কারও নাম বিচারাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তবে তাঁরা এই ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানাতে পারবেন। কীভাবে আবেদন জানাতে হবে, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটও তৈরি করা হবে। জানা গেছে, সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের ভিত্তিতেই সেই ফরম্যাট তৈরি হবে।
এদিকে বিচারাধীন তালিকা যাচাইয়ের কাজও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ১৫ লক্ষ নথি পরীক্ষা করে নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায় ইতিমধ্যেই এই যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে।
এরপর ওই দুই জেলার দায়িত্বে থাকা মোট ১৭ জন বিচারকের মধ্যে সাতজনকে অন্য জেলায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে মালদহের সুজাপুর ও মোথাবাড়িতে পাঠানো হয়েছে। দু’জন বিচারককে উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর ও চোপড়ায় এবং একজন করে বিচারককে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ ও জলপাইগুড়ির মাল বিধানসভা এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পদ্ধতি নিয়ে উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি রাজ্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন বলে সূত্রের খবর। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া ছাড়াও রবিবার পর্যন্ত যেসব ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ হবে, তাঁদের নাম অতিরিক্ত তালিকায় প্রকাশ করা হতে পারে।
যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়বে, তাঁদের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ উল্লেখ থাকতে পারে—যেমনটি গত ২৮ তারিখ প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ছিল। তবে ওই তালিকায় নাম বাদ পড়া ভোটাররা আদালতের নির্ধারিত ফরম্যাট পূরণ করে পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন। সেই আবেদন খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ট্রাইব্যুনাল।
এছাড়াও ভোটারের নামের বানান, পদবি বা ঠিকানা নিয়ে কোনও গরমিল থাকলেও ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ থাকবে বলে সূত্রে জানা গেছে।