রান্নার গ্যাসের সঙ্কটের সুযোগে নতুন ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে জালিয়াত চক্র। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে—এই সুযোগেই সাধারণ মানুষের অসহায়তাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা ব্যাঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি রাজ্যে ২৫ দিনের ব্যবধানে গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়ম জারি হওয়াকে হাতিয়ার করে গ্রাহকদের ফোনে ভুয়ো বার্তা ও ভুয়ো সংযোগ পাঠানো হচ্ছে। এমনই এক প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সল্টলেকের এক প্রৌঢ় প্রায় ২০ হাজার টাকা হারিয়েছেন।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতারণার কৌশল মূলত দু’ধরনের। প্রথম ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ফোন করে বলা হচ্ছে, গ্যাস পাচ্ছেন না? একটি সংযোগে চাপ দিলেই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলিন্ডার বাড়িতে পৌঁছে যাবে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ভয় দেখানো হচ্ছে যে নির্দিষ্ট সময়ের আগে গ্যাস বুকিং করার চেষ্টা করে তাঁরা নাকি সরকারি নিয়ম ভেঙেছেন এবং তাঁদের নামে কালোবাজারির মামলা হয়েছে।
সেই ‘জরিমানা’ এড়াতে তৎক্ষণাৎ সংযোগে চাপ দিয়ে টাকা মেটাতে বলা হচ্ছে। আতঙ্কে পড়ে অনেকেই সেই ফাঁদে পা দিচ্ছেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই ভুয়ো সংযোগে চাপ দেওয়া মাত্রই গ্রাহকের স্মার্টফোনের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে চলে যাচ্ছে। পর্দা ভাগ করে নেওয়া বা ক্ষতিকর সফটওয়্যারের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ব্যাঙ্কের হিসাব থেকে টাকা সরিয়ে নিচ্ছে সাইবার প্রতারকরা।
এর আগে করোনা কালে টিকা নেওয়া বা ব্যাঙ্কের পরিচয় যাচাই হালনাগাদের নামে যেমন প্রতারণা চলত, এখন গ্যাস সঙ্কটকে সামনে রেখে ঠিক একই কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলি কখনও ফোনে সংযোগ পাঠিয়ে টাকা দাবি করে না বা জরিমানা আদায় করে না। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও তাড়াহুড়ো তৈরি করাই জালিয়াতদের মূল লক্ষ্য। তাই এই ধরনের ফোন বা বার্তা পেলেই স্থানীয় থানায় বা জরুরি সহায়তা নম্বরে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ সন্দীপ সেনগুপ্তর পরামর্শ, অচেনা নম্বর থেকে আসা কোনো সংযোগে চাপ দেওয়া উচিত নয়। গ্যাস বুকিং সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট গ্যাস সরবরাহকারী দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। পাশাপাশি ফোনে এককালীন গোপন সংকেত বা ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত কোনো তথ্য কাউকে না দেওয়ার জন্যও সতর্ক করেছেন