পুবের কলম প্রতিবেদক, হাওড়া: বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম হঠাৎ করে অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন ছোট ও মাঝারি ফাস্টফুড ব্যবসায়ীরা। আর এ-সবের নেপথ্যে আরব দুনিয়ার যুদ্ধ। ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় যুদ্ধে হরমূল প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান, যে কারণে পারস্য উপসাগরে আটকে আছে বহু তেল এবং গ্যাস ভর্তি জাহাজ। এই পরিস্থিতির জেরে শুধু দাম বৃদ্ধিই নয়, অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি টাকা দিয়েও সময় মতো এলপিজি সিলিন্ডার মিলছে না বলে অভিযোগ। ফলে এগরোল, চাউমিন, বিরিয়ানি থেকে শুরু করে তেলেভাজা ও চায়ের দোকান;সব ক্ষেত্রেই ব্যবসায়ীরা বড় সংকটে পড়েছেন।
আরও পড়ুন:
হাওড়া স্টেশনের লাগোয়া ডবসন রোড এলাকায় বহু বছর ধরে এগরোল ও চাউমিনের দোকান চালান সাদ্দাম সেখ। তিনি বলেন, ‘সিলিন্ডার পিছু গ্যাসের দাম এতটাই বেড়েছে যে আগের দামে খাবার বিক্রি করলে কোনও লাভ থাকছে না। উপরন্তু এখন অনেক সময় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ব্ল্যাক থেকে কিনতে হলে আরও বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
’ একই সমস্যার কথা শোনালেন হাওড়া ময়দানের তেলেভাজার দোকানদার শিবু দাসও। তেলেভাজা ছাড়াও তিনি সকালে লুচি বিক্রি করেন।আরও পড়ুন:
দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসে রান্না করেন তিনি। কিন্তু গ্যাসের অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধিতে তিনি উদ্বিগ্ন। তার কথায়, ‘কয়লার উনুনে ফিরে যাওয়ার কথাও অনেকেই ভাবছেন, কিন্তু হঠাৎ করে তা করা সম্ভব নয়।
কেরোসিন তেলও আগের মতো সহজে পাওয়া যায় না।’ আরামবাগ শহরের পিসি সেন রোডের দোকানদার নিমাই মান্না বলেন, সাধারণ মানুষই তার দোকানের প্রধান খদ্দের। তাই ঘুগনি বা পরোটার দাম বাড়াতে সাহস পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ছোট ব্যবসায়ীদের বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।পশ্চিম এশিয়া থেকে বিশ্বের অন্য প্রান্তে তেল সরবরাহ হয় উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে। এই পরিবহণে হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। ইরান যদি এই পথ বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়।