০৬ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাঁকুড়ার সংখ্যালঘু গ্রামে ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার ‘বিবেচনাধীন’

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বাঁকুড়া জেলার ওন্দা ব্লকের পুনিশোল গ্রামে ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক। গ্রামটির মোট বাসিন্দা প্রায় ২৮ হাজার ১৩১ জন। কিন্তু প্রথম পর্যায়ের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে দেখা গেছে, গ্রামের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটারের নামের পাশে লেখা রয়েছে ‘বিবেচনাধীন’। ফলে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৮ হাজার ৫৫৩ জন মানুষের ভোটাধিকার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে রয়েছে।

গ্রামবাসীদের দাবি, বিশেষ ভোটার পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে পুনিশোল গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কারও না কারও ভোটাধিকার নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও এখন বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় গ্রামবাসীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে—নির্বাচনের আগে তাঁদের ভোটাধিকার সমস্যার সমাধান হবে কি না তা নিয়েই দুশ্চিন্তা বাড়ছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, তাঁরা বহু বছর ধরেই নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি শুনানিতে উপস্থিত হয়ে বৈধ কাগজপত্রও দেখিয়েছেন নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে। তবুও কেন তাঁদের নাম বিবেচনাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। অনেক গ্রামবাসীর মতে, এর পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: সংশোধনীর নামে ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা চলছে: ফের জ্ঞানেশকে চিঠি উদ্বিগ্ন মমতার

এই বিষয়ে সিপিআই(এম)-এর বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক দেবলীনা হেমব্রম বলেন, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ২০০২ সাল থেকেই নিয়মিত ভোট দিয়েছেন এবং বিভিন্ন নির্বাচনেও অংশ নিয়েছেন। অথচ এখন তাঁদের নাম বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে। এর জবাব রাজ্য ও কেন্দ্র—দুই পক্ষকেই দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ‘ওয়াকফ সম্পত্তি কাড়তে দেব না’—বাঁকুড়া থেকে দৃঢ় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী মমতার

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, যেখানে তাদের বেশি ভোট ছিল, সেখানেই পরিকল্পিতভাবে এই সমস্যা তৈরি করা হয়েছে। দলের যুব নেতা মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, বাইরে থেকে লোক এনে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত তাতে লাভ হবে না।

আরও পড়ুন: রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় বৃষ্টি কলকাতায়, নামবে কি তাপমাত্রার পারদ?

তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার বলেন, যাঁদের নথিপত্র সঠিক নয়, তাঁদের নামই বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, অনেকেই বাংলাদেশ থেকে এসে ভুয়ো ভোটার পরিচয়পত্র তৈরি করেছিলেন, তাই যাচাইয়ের সময় তাঁদের নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

পরিযায়ী পাখি লবণ হ্রদে সুভাস সরবরের কাছে

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বাঁকুড়ার সংখ্যালঘু গ্রামে ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার ‘বিবেচনাধীন’

আপডেট : ৬ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বাঁকুড়া জেলার ওন্দা ব্লকের পুনিশোল গ্রামে ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক। গ্রামটির মোট বাসিন্দা প্রায় ২৮ হাজার ১৩১ জন। কিন্তু প্রথম পর্যায়ের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে দেখা গেছে, গ্রামের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটারের নামের পাশে লেখা রয়েছে ‘বিবেচনাধীন’। ফলে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৮ হাজার ৫৫৩ জন মানুষের ভোটাধিকার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে রয়েছে।

গ্রামবাসীদের দাবি, বিশেষ ভোটার পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে পুনিশোল গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কারও না কারও ভোটাধিকার নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও এখন বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় গ্রামবাসীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে—নির্বাচনের আগে তাঁদের ভোটাধিকার সমস্যার সমাধান হবে কি না তা নিয়েই দুশ্চিন্তা বাড়ছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, তাঁরা বহু বছর ধরেই নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি শুনানিতে উপস্থিত হয়ে বৈধ কাগজপত্রও দেখিয়েছেন নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে। তবুও কেন তাঁদের নাম বিবেচনাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। অনেক গ্রামবাসীর মতে, এর পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: সংশোধনীর নামে ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা চলছে: ফের জ্ঞানেশকে চিঠি উদ্বিগ্ন মমতার

এই বিষয়ে সিপিআই(এম)-এর বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক দেবলীনা হেমব্রম বলেন, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ২০০২ সাল থেকেই নিয়মিত ভোট দিয়েছেন এবং বিভিন্ন নির্বাচনেও অংশ নিয়েছেন। অথচ এখন তাঁদের নাম বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে। এর জবাব রাজ্য ও কেন্দ্র—দুই পক্ষকেই দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ‘ওয়াকফ সম্পত্তি কাড়তে দেব না’—বাঁকুড়া থেকে দৃঢ় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী মমতার

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, যেখানে তাদের বেশি ভোট ছিল, সেখানেই পরিকল্পিতভাবে এই সমস্যা তৈরি করা হয়েছে। দলের যুব নেতা মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, বাইরে থেকে লোক এনে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত তাতে লাভ হবে না।

আরও পড়ুন: রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় বৃষ্টি কলকাতায়, নামবে কি তাপমাত্রার পারদ?

তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার বলেন, যাঁদের নথিপত্র সঠিক নয়, তাঁদের নামই বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, অনেকেই বাংলাদেশ থেকে এসে ভুয়ো ভোটার পরিচয়পত্র তৈরি করেছিলেন, তাই যাচাইয়ের সময় তাঁদের নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।