পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হবে। শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলি ঝাঁপিয়ে পড়েছে ভোট প্রচারে। এরইমধ্যে ভোটের দিনগুলিতে যাতে কোনওভাবেই অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য মদ্যপানে লাগাম টানাতে নিয়মমাফিক ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দুই দফাতেই "ড্রাই ডে"বা মদ বিক্রিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।
আরও পড়ুন:
কমিশনের প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ২৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। নিয়ম মেনে ভোট শুরুর ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে সমস্ত মদের দোকান ও পানশালা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এবার ভোটের চারদিন আগে থেকেই মদ বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, সোমবার বিকেল থেকেই সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে সুরা বিপণির ঝাঁপ পড়ে যাবে। একই ছবি দেখা যাবে দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রেও।
আগামী ২৯ এপ্রিল (বুধবার) বাংলার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। তারও চারদিন আগে থেকে ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত এলাকায় কোনও ধরনের অ্যালকোহল বা নেশাজাতীয় oব্য বিক্রি করা যাবে না।আরও পড়ুন:
তবে শুধু ভোটগ্রহণেই ইতি নয়, আগামী ৪ মে (সোমবার) অর্থাৎ চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার দিনটিও গোটা রাজ্যে পূর্ণ "ড্রাই ডে" হিসেবে পালিত হবে। ওইদিন ভোটগণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোথাও মদ কেনাবেচা করা যাবে না। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্লাবে কোনও ধরনের মদ পরিবেশন বা বিক্রি করা যাবে না।
এমনকি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য মদ মজুত রাখার ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আবগারি দফতরের নজরদারিতে থাকবে লাইসেন্সহীন জায়গাগুলিও। যদি কোথাও বেআইনিভাবে মদ মজুত বা সরবরাহ করার প্রমাণ মেলে, তবে তাৎক্ষণিক কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন:
নির্বাচন কমিশনের মতে, ভোটের সময় মদের অপব্যবহার করে অনেক সময় ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। শুধু তাই নয়, নেশার ঘোরে অশান্তি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। সেই সম্ভাবনাকে সমূলে বিনাশ করতেই এই ‘ড্রাই’ দাওয়াই। এর মধ্যেই অবশ্য পুলিশের অতি তৎপরতা নিয়ে কিছু অভিযোগ সামনে আসছে। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৪৮ ঘণ্টা আগে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা থাকলেও অভিযোগ উঠেছে যে অনেক জায়গায় যেখানে ভোট নেই,সেখানেও পুলিশ আগাম মদের দোকান বা বার বন্ধ করে দিচ্ছে।