পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির বিরুদ্ধে আনা দ্বৈত নাগরিকত্বের মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী। সোমবার লখনউ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। আবেদনকারীর পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় করা কিছু বিতর্কিত পোস্টের কারণেই তিনি এই মামলা থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বলে আদালত সূত্রে খবর।
আরও পড়ুন:
গত সপ্তাহে এই মামলার শুনানির সময় বিচারপতি জানিয়েছিলেন, রাহুল গান্ধির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কিন্তু পরে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশে কিছুটা বিলম্ব হয়।
এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে আবেদনকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচারপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী তাঁর বিবৃতিতে জানান, "আবেদনকারীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলি নির্দেশ করছে যে তিনি এই আদালতের বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করছেন এবং আদালতের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে এই আদালতের পক্ষে আর এই মামলার শুনানি চালিয়ে যাওয়া সমীচীন নয়।" বিচারপতির কথায়, আবেদনকারী আদালতে সঠিক অবস্থান ব্যাখ্যা করার পরিবর্তে উল্টে আদালতের ওপর দোষারোপ করেছেন যে কেন নির্দেশনামা সময়মতো আপলোড করা হয়নি।আরও পড়ুন:
কর্নাটকের বিজেপি কর্মী এস বিঘ্নেশ শিশির এই মামলাটি দায়ের করেছেন।
তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধি ভারত ও ব্রিটেন—উভয় দেশেরই নাগরিকত্ব ভোগ করছেন, যা ভারতীয় আইনের পরিপন্থী। ২০০৩ সালে ব্রিটেনে 'ব্যাকঅপস লিমিটেড' নামে একটি কোম্পানি খোলেন রাহুল। ২০০৫ ও ২০০৬ সালের বার্ষিক রিটার্নে তিনি নিজের জাতীয়তা 'ব্রিটিশ' হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে দাবি আবেদনকারীর। ২০০৯ সালে ওই কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে যায়। আবেদনকারী রাহুল গান্ধির বিরুদ্ধে 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা', 'অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট', 'ফরেনার্স অ্যাক্ট' এবং 'পাসপোর্ট অ্যাক্ট'-এর অধীনে মামলা করার আর্জি জানিয়েছেন।