পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মধ্যপ্রদেশের ভোপালে অবস্থিত বরকতুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী পরিষদ সম্প্রতি এক বৈঠকে প্রতিষ্ঠানের নতুন নাম হিসেবে "ভাগদেবী ভোজপাল বিশ্ববিদ্যালয়" রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এখন বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রস্তাবিত নামটি এলাকার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নামের প্রথম অংশে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর একটি পরিচিত নাম ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে "ভোজপাল" নামটি প্রাচীন শাসক রাজা ভোজের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত, যাঁকে ভোপাল নগরীর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মনে করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তার বক্তব্য, রাজা ভোজের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চায় অবদানকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, অঞ্চলের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্য নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।আরও পড়ুন:
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তিও উঠেছে। কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক তাহিরা আব্বাসী নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করে বলেন, বরকতুল্লাহ নামটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত। সেই ঐতিহাসিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা উচিত। তিনি পরামর্শ দেন, প্রস্তাবিত নামে নতুন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেতে পারে, কিন্তু ইতিমধ্যেই থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান নামকরণ করা হয়েছিল বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বিপ্লবী মাওলানা বরকতুল্লাহ ভোপালী-এর স্মরণে। তিনি ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন এবং বিদেশে গঠিত ভারতের অস্থায়ী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছিলেন। এদিকে মধ্যপ্রদেশের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী ইন্দর সিং পারমার জানান, বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তারা নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে। বিরোধী রাজনৈতিক মহলও এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন রাজ্যমন্ত্রী মুকেশ নায়েকও এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা এবং প্রশাসনিক উন্নতি। নাম পরিবর্তনের মতো বিতর্কিত বিষয়ের পরিবর্তে সেই ক্ষেত্রগুলিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।আরও পড়ুন:
ভোপালে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলের এই প্রস্তাবও বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে বলে মোট অনেকের। প্রসঙ্গত, ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রথমে ভোপাল বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত ছিল। পরে ১৯৮৮ সালে এর নাম পরিবর্তন করে বরকতুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় রাখা হয়। ৪০০ একর ক্যাম্পাসযুক্ত এই প্রতিষ্ঠান বর্তমানে মধ্যপ্রদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।