পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক:  লাদাখের গণ আন্দোলনের নেতা সোনম ওয়াংচুককে (Sonam Wangchuk Arrested) পুলিশ গ্রেফতার করল। সোনম আগেই বলেছিলেন, আমাকে যে কোনও সময়ে গ্রেফতার করলে খুশি হব। শুক্রবার তাঁকে উত্তেজক ভাষণ দিয়ে মানুষকে হিংসায় প্ররোচিত করার দায়ে পুলিশ গ্রেফতার করে। ২০১৮ সালের ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী সোনম তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর এনজিও কখনও বিদেশি সাহায্য নেয়নি।

তবে সুইজারল্যান্ড এবং ইটালির বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ব্যবসা করি আমরা। বিনিময়ে কর দিই। সোনম (Sonam Wangchuk Arrested) বলেন, লাদাখের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। লেহ বৌদ্ধ অধ্যুষিত, অন্যদিকে কার্গিল মুসলিম অধ্যুষিত। যৌথ মঞ্চে সকলে একজোট হয়েছে।

স্বাভাবিক ভাবেই আর লাদাখের মানুষকে চুপ করিয়ে রাখা যাবে না। সোনম বলেন, আমি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চেয়েছিলাম।

কিন্তু যুব সম্প্রদায় স্থির থাকতে পারে না। তাই আমি অনশন ভেঙে অ্যাম্বুলেন্সে বাড়ি চলে যাই। আমি গোলমাল চাইনি। তবে আমায় গ্রেফতার করায় ফের লাদাখে অশান্তি হবে। নিহতদের পরিচয় জানা গিয়েছে। ৪৬ বছরের শেওয়াঙ থারচিন লাদাখ স্কাউট সোলজার থেকে অবসর নিয়েছিলেন। আর একজন ২৪ বছরের স্টানজিন নামগিয়াল। আর একজন জিগমে দোরজি।

এনার বয়স জানা যায় নি। অন্যজন ২১ বছরের রিনচেন দাদুল।

এদিকে লাদাখে বিক্ষোভের জেরে ৪ জনের মৃত্যু এবং ৯০ জনের জখম হওয়ার পর কংগ্রেস সেখানকার মানুষের দীর্ঘ কালের দাবিকে মান্যতা দিতে আর্জি জানালো কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। কংগ্রেস শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, নিছক আলোচনায় চিড়ে ভিজবে না, সদর্থক ব্যবস্থা নিতে হবে। লেহ অ্যাপেক্স বডি দীর্ঘ কাল ধরে লাদাখের জন্য সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের মর্যাদা এবং পৃথক রাজ্যের ঘোষণা দাবি করে লড়াই চালাচ্ছে।

কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এদিন নিজের এক্স হ্যাণ্ডেলে লিখেছেন, লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার ৬ বছর পর সেখানকার মানুষ শুধু হতাশই হয়েছেন। তাঁরা দেখছেন, তাঁদের জমি এবং চাকরির অধিকার প্রচণ্ড বিপন্ন। স্থানীয় প্রশাসন এবং নির্বাচিত সংস্থাগুলি এখন উপরাজ্যপালের হাতে। লাদাখের মানুষ তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে উপরাজ্যপালের সঙ্গে অনেকবার বৈঠক করেছেন। তাতে কোনও ফয়সালা হয়নি।

অন্যদিকে চিন একতরফাভাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার স্থিতাবস্থা খারিজ করে এলাকা বাড়িয়ে নিয়েছে। তবু ভারত সরকার নীরব। জয়রাম লিখেছেন, লাদাখের সাংস্কৃতিক, আর্থিক, পরিবেশগত এবং সীমান্তগত বৈশিষ্ট্য ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লাদাখের মানুষ সবসময়ই নিজেদের গর্বিত ভারতীয় বলে মনে করেন।

তাঁদের যন্ত্রণা সরকারের বিবেককে জাগ্রত করবে, এই আশা করাই যায়। কথার যাতাকলে ওদের ঘোরালে চলবে না, ব্যবস্থা নিতে হবে। এদিকে গোলমালের পর যেমন লাদাখের নেতা সোনম ওয়াংচুকের এনজিওর বিদেশি সাহায্যের অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে, তেমনই ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। এপর্যন্ত ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লেহতে নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে।