পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ২১শে মঞ্চ থেকেই দিল্লি দখলের ডাক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি, সিপিএম হঠাও। লোকসভার সব আসন জিততে হবে। ২২ মানেই ২০২৪-বিজেপিকে হঠানোর আশা। অসম-ত্রিপুরাতে জিততে হবে। জয় বাংলা দিচ্ছে ডাক, জয় ভারত বেঁচে থাক। মানুষের সুনামি, মানুষের প্লাবন, তাই মানুষকে অভিনন্দন। ২০২৪ মানুষের সরকার আনুন, বিজেপির সরকার ভাঙুন।
আরও পড়ুন:
এদিন মঞ্চ থেকেই বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওদের মেরুদণ্ড বাঁকা, আমাদের মেরুদণ্ড সোজা। ওদের এক কাঁধে ইডি আর অন্যকাঁধে সিবিআই। বিজেপির একটাই কাজ সরকার ভাঙা।
আরও পড়ুন:
[caption id="attachment_44803" align="aligncenter" width="750"]
মমতার প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাঁটছেন কর্মীরা ( ছবি-সন্দীপ সাহা)[/caption]
আজ বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সবাইকে জনসমাবেশে আসার জন্য তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, বৃষ্টি থেমে গেছে। সূর্য দেবতা জেগে উঠেছে। সূর্য দেবতা আলোকবর্তিতা হয়ে আশীর্বাদ করেছে।
আরও পড়ুন:
এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো কেন্দ্র সরকারকে প্রতি কটাক্ষ করে বলেন, মানুষ খাবে কি? সবেতেই তো এখন জিএসটি বসছে। মুড়িতেও জিএসটি। এই কথা বলেই সমাবেশে আসা এক কর্মী সমর্থককের কাছ থেকে মুড়ি নিয়ে বলেন, বিজেপি নেতারা আপনারা মুড়ি খাবেন না? এখন তো সবেতেই জিএসটি বসছে দেখছি। মুড়িতেও জিএসটি, চিড়েতেও জিএসটি, দইতে জিএসটি, লস্যিতে জিএসট।
এবার কি নকুলদানাতেও জিএসটি বসবে? বাতাসা আর নিমপাতাতেও জিএসটি বসবে? ব্যাঙ্ক বন্ধ করে দিছে। প্রবিডেন্ট ফান্ডের টাকা কোথায় যাচ্ছে জানি না। ১০০ দিনের কাজে টাকা দেয় না। আবাস যোজনার বন্ধ করে দিয়েছে।আরও পড়ুন:
[caption id="attachment_44831" align="aligncenter" width="750"]
মুড়ি হাতে বিজেপিকে তোপ-- (ছবি-খালিদুর রহিম)[/caption]
মঞ্চ থেকেই মমতা সোচ্চার হয়ে বলেন, আমাদের মুড়ি আমাদের ফিরিয়ে দাও। না হলে বিজেপি বিদায় নাও। মমতা আরও বলেন, সবেতেই জিএসটি। রোগী ভর্তি হলেও জিএসটি। মরে গেলে কত জিএসটি? আর মৃতদেহের খাট কিনতে কত জিএসটি?
আরও পড়ুন:
মমতা বলেন, বিজেপির কাজ সরকার ভাঙা। মহারাষ্ট্র সরকার ভেঙেছে। এবার বলছে হরিয়ানার সরকার ভাঙবে। হুঁশিয়াড়ি দিয়ে বলেন, বাংলার ভাঙার চেষ্টা করো না। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করব। মমতা বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, যারা দেশকে চেনে না, তারা আবার দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে।
আরও পড়ুন:

দলকে কড়া বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, কেউ যদি দলের হয়ে কারুর কাছে চাঁদা তোলেন, তাহলে আমাকে জানাবেন। নিজেরাই তাকে পুলিশে হাতে তুলে দেবেন।
আরও পড়ুন:
আমি চাই সাংসদরা, বিধায়করা সাধারণ মানুষের কাছে যাক। আমি চাই সাংসদ, বিধায়করা রাস্তায় রিকশা নিয়ে ঘুরুক। আমি চাই আমাদের দলের কর্মীর সাইকেল নিয়ে মানুষের কাছে যাক।
আরও পড়ুন:
এদিন তার নিশানা থেকে বাদ যায়নি ইডি, সিবিআই থেকে অগ্নিপথ ইস্যু। সেনাকে বঞ্চিত করে অগ্নিপথ? অগ্নিপথ মানে জানেন কি? সশস্ত্রবাহিনী তৈরি করে তার পরে আপনাদের ক্যাডার করবেন?
আরও পড়ুন:
সমাবেশ থেকে মমতা বলেন, ইডি, সিবিআই আসলে ওদের মুড়ি খেতে দিন। সঙ্গে একটু তেল দেবেন। তেলটা না হয়, আমিই দিয়ে দেব। ওতে জিএসটি নেব না। ওরা অহঙ্কার করুক,আমরা মানবিক হব।
আরও পড়ুন:
মমতা এদিন বলেন, আমি চাই ভারতে একটাই দল থাকুক যার নাম হবে তৃণমূল। যে দল দেশে সম্প্রীতির বার্তা দেবে। বিজেপি সরকার ভেঙে, মানুষের সরকার আনো।
আরও পড়ুন:

মমতা এদিন মঞ্চ থেকেই বলেন, ২১ কখনও কিছু ভুলে যায় না। আর তৃণমূল কংগ্রেস থাকলে, বিনামূল্যে রেশন, লক্ষ্মী ভাণ্ডার পাবেন, স্বাস্থ্যসাথী পাবেন। পেনশন পাবেন। ট্যাব পাবেন, সবুজসাথী পাবেন। বিনাপয়সায় চিকিৎসা থেকে বিশ্ব বিদ্যালয়, কলেজ সব পাবে।
৪০ শতাংশ বেকারি কমেছে। কৃষকদের রোজগার বাংলার প্রথম। আমরা চাই, দেউচা পাচামি ১ লক্ষ চাকরি হবে। তাজপুরে পোর্ট হচ্ছে। ১২ হাজার চাকরি। ১৭ হাজার শিক্ষকের চাকরি তৈরি আছে। মামলার কারণে আটকে আছে। দেউচা পাচামি হলে বিদ্যুতের দাম কমবে। আমরা চাকরি দিই, আর বিজেপি চাকরি কেড়ে নেয়। এদিন মঞ্চ থেকেই মমতা বলেন, সিপিএম আমলে চাকরি বিক্রি হয়েছে। ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকায় চাকরি বিক্রি হয়েছেন। আপনাদের আমলে কাদের বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে? তারা বার্থ সার্টিফিকেট পাওয়া যোগ্য? ফাইলটা দেখাবেন, নাকি আমি দেখাব? বিকাশবাবু ভাজা মাছ উল্টে দেখতে পারেন না।আরও পড়ুন:
এদিন সভার শুরুতেই মমতা বলেন, এখানের আসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আমি সকলের নাম বলতে পারছি না। কিন্তু এখানে আসার জন্য সকলকেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে সবার নাম বলতে পারলে খুব খুশি হতাম।
আরও পড়ুন:
আজকে এই বৃষ্টির মধ্যে সকলে এখানে এসেছেন। গত দুবছর আমরা করোনার কারণে এই সমাবেশ করতে পারিনি। আর করোনার কারণে আমরা অনেককে হারিয়েছি। লতা মঙ্গেশকর, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, সোমিত্র চট্টোপাধ্যায়, কেকে অভিষেক সবাইকে আমরা হারিয়েছি, তাদের সকলকে শ্রদ্ধা।
আরও পড়ুন: