পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: সন্দেশখালিতে দাঁড়িয়ে রবিবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার অভিযোগ, এই প্রকল্পে রাজ্যের মহিলারা মাত্র ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার বিনিময়ে নিজেদের শাঁখা, পলা, সিঁদুর বিসর্জন দিচ্ছেন।

বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই অর্থ বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। বিরোধী দলনেতার এমন মক্তব্যের প্রেক্ষিতে সোমবার মধ্যমগ্রামে জেলা দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে পাল্টা আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা ও সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁদের অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারী এ রাজ্যের নারীদের সম্মানে আঘাত করেছেন, তাদের মূল্য নির্ধারণ করার চেষ্টা করেছেন।

এই মন্তব্যে গোটা নারী সমাজ অপমানিত হয়েছেন। তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

মধ্যমগ্রামে তৃণমূলের পার্টি অফিসে সাংবাদিক বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘দ্রৌপদীর চুলে হাত দিয়ে কৌরবদের ধ্বংস হয়েছিল, শুভেন্দুও বাংলার নারীদের অপমান করে সেই পথেই হাঁটছেন। শাঁখা, পলা, সিঁদুর কোনও দামের নয়, এগুলো আবেগ, সংস্কৃতি আর আত্মপরিচয়ের অংশ।

এই মন্তব্য বাংলার দুই কোটিরও বেশি মহিলাকে অপমান করেছে, তাদের অস্তিত্বে আঘাত করেছে।

’ তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নেতারা ক্রমাগত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা মহিলাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন। সুকান্ত মজুমদার থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতারাও এই অপসংস্কৃতির অংশ।

মন্ত্রী শশী পাঁজাও তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘নারীর সম্মান রক্ষার কথা বিজেপির মুখে মানায় না। আগে ওরা বিজেপি শাসিত রাজ্যে নারীদের সুরক্ষায় কী করেছে তা দেখাক। সেখানে নারী প্রকল্প চালু করতে ব্যর্থ, অথচ বাংলার মহিলাদের প্রতীকী করে তুলছে।

শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য শুধু কুরুচিপূর্ণ নয়, ঘৃণ্য ও নিন্দনীয়। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প একটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, যা বাংলার মায়ের হাতকে শক্তি দেয়। এটা রাজনীতি নয়, নারীর মর্যাদার প্রশ্ন। বাংলার মহিলারা এর যোগ্য জবাব দেবেন, নির্বাচনের ময়দানেই তাঁর মূল্য বুঝে নেবেন।’

তাঁদের সাফ বার্তা, ‘বাংলার মা-বোনেরা এই অসম্মান মেনে নেবেন না। শুভেন্দু অধিকারীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত, না হলে বাংলার নারীরা তাঁদের ভোটেই উপযুক্ত জবাব দেবেন।’