রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের নতুন নিয়ম ঘিরে রাজ্যজুড়ে বিভ্রান্তি বাড়ছে। কেন্দ্র প্রথমে জানিয়েছিল, বাড়িতে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার ২৫ দিন পরে আবার বুকিং করা যাবে। কিন্তু পরে পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী জানান, গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ৪৫ দিনের আগে বুকিং করা যাবে না। আর এই ঘোষণার পর থেকেই ধন্দ তৈরি হয়েছে—গ্রামীণ গ্রাহক কারা, আর শহরের গ্রাহকই বা কাদের বলা হবে?
রাজ্যের নানা প্রান্তে এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে একটাই প্রশ্ন উঠছে—শহর ও গ্রামের সীমা ঠিক কীভাবে নির্ধারণ করা হবে? কোনও শহুরে এলাকার একটি অংশ যদি পঞ্চায়েতের অন্তর্গত হয়, তাহলে সেটিকে কি গ্রাম হিসেবে ধরা হবে? এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যাচ্ছে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা কিংবা গ্যাস সরবরাহকারীরাও এ বিষয়ে পরিষ্কার কিছু জানাতে পারছেন না।
গ্যাস সরবরাহকারীদের মতে, বর্তমানে দেশে অঞ্চলভিত্তিক চার ধরনের পরিবেশক ব্যবস্থা রয়েছে—শহুরে, শহর-গ্রাম মিলিত, গ্রামীণ এবং দুর্গম অঞ্চলভিত্তিক।
শহুরে পরিবেশকেরা কেবল শহরের গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ করেন। শহর-গ্রাম মিলিত পরিবেশকেরা শহর ও গ্রামের উভয় গ্রাহককেই পরিষেবা দেন। গ্রামীণ পরিবেশকেরা মূলত গ্রামের গ্রাহকদের জন্য। আর দুর্গম অঞ্চলভিত্তিক পরিবেশকেরা দূরবর্তী এলাকায় গ্যাস পৌঁছে দেন, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গ্রামাঞ্চল।
তবে সমস্যার মূল জায়গা অন্যত্র।
প্রথমত, একজন গ্রাহক নিজে জানেন না তিনি কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। কারণ তিনি সাধারণত নিজের পছন্দের বা নিকটবর্তী পরিবেশকের কাছেই গ্রাহক হন। দ্বিতীয়ত, পরিবেশকের শ্রেণি যাই হোক না কেন, তারা সাধারণত একই এলাকায় শহর ও গ্রামের উভয় গ্রাহককেই গ্যাস সরবরাহ করেন। ফলে বাস্তবে শহর ও গ্রামের সীমারেখা অনেক ক্ষেত্রেই মিশে গেছে।
পরিবেশকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ২০০৯ সালে ‘রাজীব গান্ধী গ্রামীণ এলপিজি বিতরক’ নামে একটি প্রকল্প চালু হয়েছিল। পরে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই প্রকল্পে নতুন পরিবেশক নিয়োগ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু সেই প্রকল্পের আওতায় এখনও বহু গ্রাহক রয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই শহরে বসবাস করেন।
ফলে তাঁদের ক্ষেত্রে ২৫ দিনের নিয়ম প্রযোজ্য হবে, না ৪৫ দিনের—তা স্পষ্ট নয়।
পরিবেশকদের মতে, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এমন বহু এলাকা রয়েছে যেখানে শহুরে বসতি থাকলেও প্রশাসনিকভাবে তা পঞ্চায়েতের অধীনে। আবার কোথাও শহরের মধ্যেই গ্রামীণ শ্রেণির পরিবেশক রয়েছে। ফলে কোন নিয়ম কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি বাড়ছে।
অল ইন্ডিয়া গ্যাস পরিবেশক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি বিজনবিহারী বিশ্বাস বলেন, শহর ও গ্রামের গ্রাহক আলাদা করা কীভাবে সম্ভব, তা স্পষ্ট নয়। এই বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তাঁদের হাতে আসেনি। ফলে গ্রাহকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে পূর্ব ভারত গ্যাস পরিবেশক সমিতির সভাপতি সঞ্জয় আগরওয়াল জানান, অনেক ক্ষেত্রে রেললাইনের এক পাশে শহর আর অন্য পাশে গ্রাম। এমন অবস্থায় যদি আলাদা নিয়ম চালু করা হয়, তাহলে সমস্যাই বাড়বে। গ্যাস বুকিং নিয়ে ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে বলেও তিনি জানান।