আবদুল ওদুদঃ বিভিন্ন জেলার গ্রাম-গঞ্জ থেকে বহু ছাত্রী উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতা শহরে পাড়ি জমায়। কিন্তু সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলিম মহিলাদের জন্য সরকারি হস্টেল না থাকায় অনেকের স্বপ্নপূরণ হয় না। অনেকের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকার কারণে হস্টেল না পাওয়ায় মেস-এ থাকতে পারে না। আবার মুসলিমদের ঘর-ভাড়া পাওয়াটাও একটা বড় সমস্যা। এই সমস্ত ছাত্রীর জন্য কলকাতায় আরও একটি হস্টেল চালু হতে চলেছে। যদিও গত বছর হজ কমিটি পরিচালিত ঐকতান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু করোনা সংক্রমন বেড়ে যাওয়ায় চালু করা সম্ভব হয়নি। দিন কয়েক আগে কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় চালু হওয়ায় ঐকতান খোলার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য হজ কমিটি।
গত বছর সামান্য সাড়া মিলেছিল। কিছু আবেদনও জমা পড়েছিল। তা থেকে কয়েকজনকে হস্টেলে ভর্তি করা হয়।আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য হজ কমিটির তত্বাবধানে কৈখালিতে কয়েক বছর আগেই তৈরি হয়েছে 'ঐকতান’গার্লস হস্টেল। কয়েক বছর আগেই এই হস্টেলের কাজ শেষ হয়। কিন্তু করোনা আবহে চালু করা সম্ভব হয়নি। এই হস্টেলটি এবার চালুর পথে।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার রাজ্য হজ কমিটি সূত্রে এমনটাই জানানো হয়েছে। ভিআইপি রোডের ধারে আটতলা ভবনটি নতুন বছরের শুরুতেই ছাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তার জন্য আবেদন পত্র জমা দেওয়ার কাজ অনলাইনে শুরু হয়েছে বলে রাজ্য হজ কমিটি জানিয়েছে। আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত হস্টেলের জন্য আবেদন করা যাবে।
আরও পড়ুন:
কৈখালির হজ টাওয়ারের পাশেই অবস্থিত ঝা চকচকে ঐকতান। ভিআইপি রোড লাগোয়া হওযায় ছাত্রীদের যাতায়াতের কোনও সমস্যা হবে না বলে রাজ্য হজ কমিটির নির্বাহী আধিকারিক মুহাম্মদ নকী জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, 'ঐকতান'-এ ২১৪ জন ছাত্রী থাকতে পারবে।
স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর-এ পাঠরত ছাত্রীরা আবেদনের যোগ। যে কোনও শাখায় স্নাতক স্তরে পাঠরতরা আবেদন করতে পারবে। এছাড়া কোনও ছাত্রী যদি মেডিকেল– ডিএমএস নিয়ে পড়াশুনা করছে তারাও আবেদন করতে পারবে।আরও পড়ুন:
এছাড়াও স্নাতকোত্তর কিংবা ল'-বিএড কোর্স করছে তাদেরও সুযোগ দেওয়া হবে। কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেগুলার স্টুডেন্টরা এই আবেদনের যোগ্য বলে মুহাম্মদ নকি জানান।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, কলকাতায় রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের তত্ববধানে পার্ক সার্কাস-এ দুটি গার্লস হস্টেল রয়েছে দুটিইz দিলখুশা স্ট্রিটে। পার্ক সার্কাস মুসলিম গার্লস হস্টেল এবং অপরটি একে ফজলুল হক মুসলিম গার্লস হস্টেল। এর সঙ্গে রাজ্য হজ কমিটির তৈরি আরও একটি হস্টেল তৈরি হওয়ায় মফঃস্বলের ছাত্রীদের কলকাতায় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আরও সুবিধা হবে। তিনটি হস্টেলে প্রায় ৬০০ ছাত্রী থাকতে পারবে।