পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: বিখ্যাত মানবাধিকার সংস্থা এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কাশ্মীরে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের জন্য আবেদন জানাল ভারত সরকারের কাছে। এমনেস্টি জানায়, আন্তর্জাতিক আইনে কাউকেও গৃহহীন করা যায় না। ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে কাশ্মীরে বুলডোজার অভিযান, বাসভবন ও দোকানপাট ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনন্তনাগ ও বারামুল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে উচ্ছেদ। এই খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এমনেস্টি। এই সংস্থার ভারতের দায়িত্বশীল আকার প্যাটেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরে এই নির্মম অভিযান চরম মানবাধিকার হরণের কাজ। এই উচ্ছেদের ফলে বহু মানুষ গৃহহীন হবেন।
ভারতের মুসলিম অধ্যুষিত এই অঞ্চলে চূড়ান্ত মানবাধিকার ভঙ্গের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। এইভাবে কারও বসবাস করার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।আরও পড়ুন:
এমনেস্টির ব্রিটেনের এক ডাইরেক্টর পিটার ফ্রাঙ্কেনটাল বলেন, ভারত সরকার এই জেসিবি দিয়ে উচ্ছেদ অবিলম্বে বন্ধ করুক। ভারত সরকার নিশ্চিত করুক যে কোনওভাবেই জবরদস্তি উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। উচ্ছেদের আগে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকে। তাদের জন্য বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়। উচ্ছেদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড নীতি মেনে চলতে হয়।
পিটার বলেন, অবিলম্বে উচ্ছেদ বন্ধ রেখে গৃহহারা পরিবারদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করুক সরকার। তাদের দেখভালের দায়িত্ব নিক সরকার। আর এই উচ্ছেদ যারা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।আরও পড়ুন:
কাশ্মীরে সরকারি জমি জবরদখল অভিযোগ দিয়ে এই উচ্ছেদ শুরু হয়। ভুক্তভোগীরা সংবাদ মাধ্যমের সামনে এসে তাদের জমিনের মালিকানার কাগজপত্র দেখাচ্ছেন। তারা বলছেন ২০/২৫ বছর ধরে তারা সেখানে বসবাস করে আসছেন। কোনও সময় সরকার তাদের কোনও নোটিশ পাঠায়নি।
এইবার উচ্ছেদ চালানোর আগেও তাদের কোনওভাবেই জানানো হয়নি বলে তারা মিডিয়ার সামনে দাবি জানাচ্ছেন। বুলডোজার চালানোর আগে স্থানীয় প্রশাসন তাদের সঙ্গে কোনও কথা বলেনি। হঠাৎ করেই এই অভিযান শুরু হয়েছে। বুলডোজারের সামনে পুরুষ ও মহিলাদের কাতর আবেদন ও কান্নার রোলের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিয়োর মাধ্যমে।আরও পড়ুন:
অপরদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিকে আটক করেছে দিল্লির পুলিশ। উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন মেহবুবা। তাঁকে আটক করার সময় মিডিয়ার সামনে বলছিলেন কাশ্মীরে এখন গুণ্ডারাজ চলছে।