পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ইরানের যুদ্ধজাহাজ IRIS Dena–এ মার্কিন পানডুবি জাহাজের হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। এ ঘটনাকে ঘিরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, এ হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে। ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধজাহাজটি সম্প্রতি ভারতীয় নৌবাহিনীর অতিথি হিসেবে সফর করেছিল এবং এতে প্রায় ১৩০ জন নাবিক ছিলেন। তেহরানের দাবি, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা সতর্কতা ছাড়াই মার্কিন বাহিনী তাদের জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন একটি দৃশ্যচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় টর্পেডো হামলার পর যুদ্ধজাহাজটির কাঠামো ভেঙে যাচ্ছে। শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটি থেকে অন্তত ৩২ জন ইরানি নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
মার্কিন সামরিক সূত্র জানায়, হামলায় পানডুবি জাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য মার্ক–৪৮ ধরনের ভারী টর্পেডো ব্যবহার করা হয়েছে। এই অস্ত্রটি জাহাজের নিচে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য তৈরি, যার ফলে বড় গ্যাস বুদবুদ সৃষ্টি হয় এবং জাহাজের কাঠামো ভেঙে দ্রুত ডুবে যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর এই প্রথম যুদ্ধের সময় সরাসরি টর্পেডো ব্যবহার করে কোনো শত্রু জাহাজ ডুবিয়েছে মার্কিন পানডুবি জাহাজ। শেষবার এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট, যখন মার্কিন পানডুবি জাহাজ USS Torsk জাপানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল।
আরও পড়ুন:
এরপরের কয়েক দশকে মার্কিন পানডুবি জাহাজে টর্পেডো থাকলেও সেগুলো মূলত গোয়েন্দা অভিযান বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। উপসাগরীয় যুদ্ধ থেকে শুরু করে আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া ও ইয়েমেনের বিভিন্ন অভিযানে পানডুবি জাহাজ ব্যবহৃত হলেও টর্পেডো দিয়ে সরাসরি জাহাজ ডোবানোর ঘটনা আর দেখা যায়নি। তাই আইআরআইএস ডেনা ডুবে যাওয়ার ঘটনাকে সামুদ্রিক যুদ্ধের ইতিহাসে বহু দশক পর এক বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।