পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দিল্লিভিত্তিক সংস্থা ইনস্টিটিউট অফ অবজেক্টিভ স্টাডিজ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী এবং রাজ্যসভার প্রাক্তন ডেপুটি চেয়ারম্যান প্রবীণ রাজনীতিবিদ কে. রহমান খানকে বার্ষিক লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরুস্কার দেওয়ার জন্যে বেছে নিয়েছে৷এই পুরস্কারটি এমন ব্যক্তিদের সম্মানিত করার জন্য দেওয়া হয় যাঁরা সমাজ উন্নয়নে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। কে. রহমান খানের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্সটিটিউট অব অবজেক্টিভ স্টাডিজের অ্যাওয়ার্ড কমিটি অনুমোদন করেছে।
আরও পড়ুন:
রহমান খান ৫ এপ্রিল, ১৯৩৯ সালে মহীশূরের মান্ডিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। সাধারণ জনগণকে সাহায্য করার আকাঙ্ক্ষা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করার আগে একজন হিসাবরক্ষক হিসাবে তাঁর বিশেষপরিচয় ছিল। তিনি কর্নাটকের প্রথম মুসলিম, যিনি কঠিন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
তিনি প্রথম ১৯৭৮ সালে কর্ণাটক আইন পরিষদে নির্বাচিত হন। ১৯৮২-৮৪ সালে আইন পরিষদে চেয়ারম্যান হন। তারপর ১৯৯৩-৯৪ সালে কর্নাটক রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের প্রধান হন। কর্নাটক সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান হিসাবে তিনি সংখ্যালঘুদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঠিক মূল্যায়ন করার ওপর জোর দিয়েছিলেন।তিনি প্রথম ১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসে রাজ্যসভার সাংসদ হন এবং ২০০০ সালে আবার নির্বাচিত হন। তিনি মে ২০০০ থেকে জুলাই ২০০৪ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভায় কংগ্রেস দলের উপনেতার পদে অধিষ্ঠিত হন।আরও পড়ুন:
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রাসায়নিক ও সার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি ২২ জুলাই ২০০৪ থেকে ২ এপ্রিল ২০০৬ পর্যন্ত রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে জন্য নির্বাচিত হন। তিনি এপ্রিল ২০০৬ সালে রাজ্যসভায় তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০২১ সালে ইউপিএ সরকারের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী নিযুক্ত হন।বেঙ্গালুরুর আল-আমীন এডুকেশন সোসাইটির সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।
সংখ্যালঘুদের উচ্চ শিক্ষার জন্য নতুন মান দেওয়ার পাশাপাশি তাকে একটি সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর যথেষ্ট অবদান ছিল।তাঁর সাম্প্রতিকতম বই ‘দ্য রোডম্যাপ ফর ইন্ডিয়ান মুসলিম’ একাডেমিক সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসাবে বিবেচিত।ইনস্টিটিউট অব অবজেক্টিভ স্টাডিজের অ্যাওয়ার্ড কমিটি কে. রহমান খান তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই বছর লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পাবেন। পুরস্কার অনুষ্ঠানের তারিখ শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, এর আগে উল্লেখযোগ্য আবদানের ভিত্তিতে এই পুরস্কার পেয়েছেন, আমিরাত শরিয়াহ ফুলওয়ারি শরীফ, পটনা, ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এ এম আহমাদি, আখলাক রহমান কিদওয়াই, অধ্যাপক বি. শেখ আলী, মাওলানা সাইদুর রহমান আজমি নদভি, এ জি নূরানী, অধ্যাপক আখতার আল ওয়াসে, অধ্যাপক মহসিন ওসমানী নদভী এবং মাওলানা হাকিম আবদুল্লাহ মুগাইসি।ইনস্টিটিউট অফ অবজেক্টিভ স্টাডিজ ২০০৭ সালে প্রথম লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া শুরু করে। যাঁরা আইন, সাংবাদিকতা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সাহিত্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া এই পুরস্কারের মূল লক্ষ্য।