পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: চণ্ডীগড়ে প্রশাসনিক পরিবর্তনের চেষ্টা করছে কেন্দ্র, এই অভিযোগে সরব হয়েছে আম আদমি পার্টি, কংগ্রেস ও অকালি দল। অভিযোগ ওঠে, ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলের মাধ্যমে চণ্ডীগড়কে সংবিধানের ২৪০ ধারার আওতায় এনে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মতো শাসনব্যবস্থা চালু করতে চাইছে মোদী সরকার। এতে রাষ্ট্রপতি চণ্ডীগড়ের জন্য সরাসরি নিয়ম-কানুন প্রণয়নের ক্ষমতা পাবেন বলে আশঙ্কা বিরোধীদের। তবে রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এক্স-এ পোস্ট করে জানায়, চণ্ডীগড়ের আইন প্রণয়ন সহজ করতে একটি প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে ঠিকই, কিন্তু এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পাশাপাশি স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শীতকালীন অধিবেশনে চণ্ডীগড়-সম্পর্কিত কোনও বিল আনার পরিকল্পনা নেই।

মন্ত্রকের ভাষায়, “চণ্ডীগড়ের প্রশাসন বা পাঞ্জাব-হরিয়ানার সঙ্গে এই প্রস্তাবের কোনও সম্পর্ক নেই। সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

সংবিধানের ২৪০ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আন্দামান–নিকোবর, লাক্ষাদ্বীপ, দাদরা–নগর হাভেলি, দমন–দিউ ও পুদুচেরির মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য পৃথক বিধিমালা তৈরি করতে পারেন। বিরোধীরা দাবি করছে, এই তালিকায় চণ্ডীগড়কে যুক্ত করার মাধ্যমে পাঞ্জাবের অধিকার খর্ব করা হবে। ১৯৬৬ সালে পাঞ্জাব বিভাজনের পর থেকে চণ্ডীগড় একই সঙ্গে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার যুগ্ম রাজধানী।
এটিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয় পাঞ্জাবের রাজ্যপালকে। বহুদিন ধরেই পাঞ্জাবের দাবি—চণ্ডীগড় পুরোপুরি পাঞ্জাবের অধীনে আসুক এবং হোক হরিয়ানার আলাদা রাজধানী।

কেন্দ্রের ব্যাখ্যার আগেই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চণ্ডীগড় গড়ে তুলতে পাঞ্জাবের বহু গ্রাম ধ্বংস হয়েছিল। তাই “চণ্ডীগড়ের ওপর পাঞ্জাবের স্বাভাবিক অধিকার রয়েছে।” কংগ্রেসও কেন্দ্রের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে। যদিও কেন্দ্র জানিয়েছে,বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনই কোনও বিল আনার প্রশ্ন নেই।