১৪ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিয়ে ছাড়া যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করছে ইন্দোনেশিয়া

পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ চলতি মাসেই নতুন আইন পাস করতে চলেছে ইন্দোনেশিয়া।  বিয়ে ছাড়া যৌন সম্পর্ককে আইনত নিষিদ্ধ করতে চলেছে দেশটি। বিয়ে না করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে দেশটির পার্লামেন্টে চলতি মাসে একটি আইন পাস হতে যাচ্ছে। আইনটির খসড়া তৈরির সঙ্গে জড়িত রাজনীতিবিদ বামবাং উরিয়ান্তো বলেছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই আইনটি পাস হতে পারে।

 

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে নিহত ১৬ প্রবীণ

আইনটি পাস হলে ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক এবং বিদেশিদের জন্যও একইভাবে প্রযোজ্য হবে। নাগরিকরা ব্যভিচারের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানালে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। যারা বিবাহিত তাদের ক্ষেত্রে অভিযোগ দায়ের করার অধিকারী পক্ষ হল অপরাধীর স্বামী বা স্ত্রী। আর অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে তাদের অভিভাবকরা অভিযোগ করতে পারবেন। বিয়ের আগে সহবাসও নিষিদ্ধ করা হবে এবং দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। নতুন এই আইনে প্রেসিডেন্ট কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবমাননা এবং ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রীয় আদর্শবিরোধী যেকোনও দৃষ্টিভঙ্গিকেও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি ইসলামি সংগঠন খসড়া আইনটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়াল

 

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় আবাসিক স্কুল ধসে মৃত ৩৭, এখনো নিখোঁজ ২৬

তবে বিরোধীরা বলছেন, আইনটি উদার সংস্কারগুলোর পরিপন্থী। এই দণ্ডবিধির পূর্ববর্তী খসড়াটি ২০১৯ সালে পাস হওয়ার কথা ছিল। তবে এ নিয়ে তখন ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, এ ধরনের আইন নাগরিক স্বাধীনতাকে ক্ষুন্ন করবে। সরকার বলছে, আইনটির খসড়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, আইনে খুব সামান্যই পরিবর্তন এসেছে। সর্বশেষ ২৪ নভেম্বর যে খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে তা হল, বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনায় সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড হবে।

 

অভিযোগ করার এখতিয়ার শুধু ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মতো সীমিতসংখ্যক মানুষের কাছে থাকবে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে অবমাননার দায়ে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত সাজার বিধান রাখা হয়েছে। এর আগে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে কঠোর শরিয়াহ আইন জারি করা হয়েছিল। সেখানে জুয়া খেলা, মদ্যপান, সমকামিতা এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০২১ সালে দু’জন সমকামী পুরুষকে যৌন সম্পর্কের অপরাধে ৭৭টি করে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল। একই দিনে একজন নারী এবং পুরুষকে একে অপরের কাছাকাছি আসার অপরাধে ২০টি করে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল এবং অ্যালকোহল পানে  জন্য দুই পুরুষকে ৪০টি করে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল।

ট্যাগ :
প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

যত দ্রুত সম্ভব ইরান ছাড়ুন: ভারতীয় নাগরিকদের জরুরি নির্দেশ দিল ভারতীয় দূতাবাস

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বিয়ে ছাড়া যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করছে ইন্দোনেশিয়া

আপডেট : ৪ ডিসেম্বর ২০২২, রবিবার

পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ চলতি মাসেই নতুন আইন পাস করতে চলেছে ইন্দোনেশিয়া।  বিয়ে ছাড়া যৌন সম্পর্ককে আইনত নিষিদ্ধ করতে চলেছে দেশটি। বিয়ে না করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে দেশটির পার্লামেন্টে চলতি মাসে একটি আইন পাস হতে যাচ্ছে। আইনটির খসড়া তৈরির সঙ্গে জড়িত রাজনীতিবিদ বামবাং উরিয়ান্তো বলেছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই আইনটি পাস হতে পারে।

 

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে নিহত ১৬ প্রবীণ

আইনটি পাস হলে ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক এবং বিদেশিদের জন্যও একইভাবে প্রযোজ্য হবে। নাগরিকরা ব্যভিচারের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানালে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। যারা বিবাহিত তাদের ক্ষেত্রে অভিযোগ দায়ের করার অধিকারী পক্ষ হল অপরাধীর স্বামী বা স্ত্রী। আর অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে তাদের অভিভাবকরা অভিযোগ করতে পারবেন। বিয়ের আগে সহবাসও নিষিদ্ধ করা হবে এবং দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। নতুন এই আইনে প্রেসিডেন্ট কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবমাননা এবং ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রীয় আদর্শবিরোধী যেকোনও দৃষ্টিভঙ্গিকেও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি ইসলামি সংগঠন খসড়া আইনটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়াল

 

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় আবাসিক স্কুল ধসে মৃত ৩৭, এখনো নিখোঁজ ২৬

তবে বিরোধীরা বলছেন, আইনটি উদার সংস্কারগুলোর পরিপন্থী। এই দণ্ডবিধির পূর্ববর্তী খসড়াটি ২০১৯ সালে পাস হওয়ার কথা ছিল। তবে এ নিয়ে তখন ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, এ ধরনের আইন নাগরিক স্বাধীনতাকে ক্ষুন্ন করবে। সরকার বলছে, আইনটির খসড়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, আইনে খুব সামান্যই পরিবর্তন এসেছে। সর্বশেষ ২৪ নভেম্বর যে খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে তা হল, বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনায় সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড হবে।

 

অভিযোগ করার এখতিয়ার শুধু ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মতো সীমিতসংখ্যক মানুষের কাছে থাকবে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে অবমাননার দায়ে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত সাজার বিধান রাখা হয়েছে। এর আগে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে কঠোর শরিয়াহ আইন জারি করা হয়েছিল। সেখানে জুয়া খেলা, মদ্যপান, সমকামিতা এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০২১ সালে দু’জন সমকামী পুরুষকে যৌন সম্পর্কের অপরাধে ৭৭টি করে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল। একই দিনে একজন নারী এবং পুরুষকে একে অপরের কাছাকাছি আসার অপরাধে ২০টি করে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল এবং অ্যালকোহল পানে  জন্য দুই পুরুষকে ৪০টি করে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল।