২৯ অগাস্ট ২০২৫, শুক্রবার, ১২ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাকরিহারাদের আন্দোলন এ বার দিল্লিতেও, শিক্ষাসচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঘোষণা ‘যোগ্য’দের

চামেলি দাস
  • আপডেট : ২৬ মে ২০২৫, সোমবার
  • / 287

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: চাকরিহারা শিক্ষকদের আন্দোলন এ বার দিল্লিতেও হবে। সোমবার বিকাশভবনে শিক্ষাসচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঘোষণা করেন ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের একাংশ। এদিন চাকরিহারাদের সঙ্গে শিক্ষা সচিবের প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠক হয়।  বৈঠক  শেষে চাকরিহারারা শিক্ষকরা সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দেন, নতুন করে চাকরির বিজ্ঞপ্তি তাঁরা চান না। কোনও ভাবেই নতুন করে পরীক্ষায় তাঁরা বসবেন না। রিভিউয়ের মধ্যে দিয়ে চাকরি সুনিশ্চিত করা হোক।

একই সঙ্গে তাঁরা জানিয়ে দিলেন, এ বার থেকে তাঁদের আন্দোলনের অভিমুখ আর রাজ্যমুখীই থাকবে না, কেন্দ্রের বিরুদ্ধেও আন্দোলন হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে চাকরিহারারা বলেন, ‘প্রয়োজনে রি-প্যানেলের মধ্যে দিয়ে যাঁরা যোগ্য, তাঁদের পুরোনো চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হোক। কর্মহারা শিক্ষক হাবিবুল্লা জানান, শিক্ষামন্ত্রী থাকলে তাঁরা হয়ত ১০০ শতাংশ প্রশ্নের জবাব পেতেন।

আরও পড়ুন: শি জিনপিংয়ের সাথে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

এ দিনের বৈঠকে তাঁরা যে উত্তর পেয়েছেন, তা পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। হাবিবুল্লা জানান, এই চাকরি যাওয়ার পর অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কারও স্ট্রোক হয়েছে, কেউ অন্য কোনও সমস্যায় ভুগছেন। হাবিবুল্লা বলেন, ‘আমরা শিক্ষাসচিবকে জানিয়ে এসেছি, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। আমাদের এমন কিছু প্রশ্ন আছে, যার উত্তর শিক্ষামন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীই দিতে পারবেন। অন্য কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে আজকের মিটিংয়ে কিছুটা উত্তর পেলেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই।’

আরও পড়ুন: মিয়ানমারে প্রথম দফার ভোট ২৮ ডিসেম্বর , নজর রাখছে নয়াদিল্লি, চিন

একই সঙ্গে চাকরিহারাদের বক্তব্য, ‘আধিকারিকদের দুর্নীতি যেমন তাঁদের এই পরিণতির জন্য দায়ী, আদালতও আমাদের দিকটা দেখেনি। মানবিকতার দিকটি দেখা হয়নি, আমাদের সঙ্গে ন্যায় হয়নি।  রায় পুনর্বিবেচনা করার আর্জি আমাদের।’

আরও পড়ুন: দিল্লি ৬৬ বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠাচ্ছে

গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরিহারা বাংলার প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা। হকের চাকরি ফিরে পেতে চলছে আন্দোলন।   এদিনই অযোগ্যদের টার্মিনেশন বা বাদ দেওয়ার দাবিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে গেলেন সুমন বিশ্বাস নামে এক চাকরিহারা শিক্ষক ।

২০১৬ সালে এসএসসি গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি-র যে কর্মীরা আদালতের নির্দেশে চাকরি হারিয়েছেন, তাঁরা যথাক্রমে ২৫ এবং ২০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন বলে ঘোষণা  করা হয় রাজ্যের তরফে। রাজ্য ওই প্রকল্পের নাম দিয়েছে, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল লাইভলিহুড অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি ইন্টারিম স্কিম, ২০২৫।’

চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে ওই ভাতা কার্যকর করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ। অন্য দিকে, রাজ্যের এই ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলা হয় হাইকোর্টে। সোমনাথ মণ্ডল-সহ কয়েক জন ‘বঞ্চিত’ চাকরিপ্রার্থী একটি মামলা করেন। তাঁদের দাবি, ভাতা দিতে হলে সকল চাকরিপ্রার্থীকে দেওয়া হোক। অথবা, সিদ্ধান্ত বাতিল করা হোক। ওই মামলাটির শুনানিও গরমের ছুটির পরে হওয়ার কথা।

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

চাকরিহারাদের আন্দোলন এ বার দিল্লিতেও, শিক্ষাসচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঘোষণা ‘যোগ্য’দের

আপডেট : ২৬ মে ২০২৫, সোমবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: চাকরিহারা শিক্ষকদের আন্দোলন এ বার দিল্লিতেও হবে। সোমবার বিকাশভবনে শিক্ষাসচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঘোষণা করেন ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের একাংশ। এদিন চাকরিহারাদের সঙ্গে শিক্ষা সচিবের প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠক হয়।  বৈঠক  শেষে চাকরিহারারা শিক্ষকরা সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দেন, নতুন করে চাকরির বিজ্ঞপ্তি তাঁরা চান না। কোনও ভাবেই নতুন করে পরীক্ষায় তাঁরা বসবেন না। রিভিউয়ের মধ্যে দিয়ে চাকরি সুনিশ্চিত করা হোক।

একই সঙ্গে তাঁরা জানিয়ে দিলেন, এ বার থেকে তাঁদের আন্দোলনের অভিমুখ আর রাজ্যমুখীই থাকবে না, কেন্দ্রের বিরুদ্ধেও আন্দোলন হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে চাকরিহারারা বলেন, ‘প্রয়োজনে রি-প্যানেলের মধ্যে দিয়ে যাঁরা যোগ্য, তাঁদের পুরোনো চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হোক। কর্মহারা শিক্ষক হাবিবুল্লা জানান, শিক্ষামন্ত্রী থাকলে তাঁরা হয়ত ১০০ শতাংশ প্রশ্নের জবাব পেতেন।

আরও পড়ুন: শি জিনপিংয়ের সাথে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

এ দিনের বৈঠকে তাঁরা যে উত্তর পেয়েছেন, তা পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। হাবিবুল্লা জানান, এই চাকরি যাওয়ার পর অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কারও স্ট্রোক হয়েছে, কেউ অন্য কোনও সমস্যায় ভুগছেন। হাবিবুল্লা বলেন, ‘আমরা শিক্ষাসচিবকে জানিয়ে এসেছি, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। আমাদের এমন কিছু প্রশ্ন আছে, যার উত্তর শিক্ষামন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীই দিতে পারবেন। অন্য কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে আজকের মিটিংয়ে কিছুটা উত্তর পেলেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই।’

আরও পড়ুন: মিয়ানমারে প্রথম দফার ভোট ২৮ ডিসেম্বর , নজর রাখছে নয়াদিল্লি, চিন

একই সঙ্গে চাকরিহারাদের বক্তব্য, ‘আধিকারিকদের দুর্নীতি যেমন তাঁদের এই পরিণতির জন্য দায়ী, আদালতও আমাদের দিকটা দেখেনি। মানবিকতার দিকটি দেখা হয়নি, আমাদের সঙ্গে ন্যায় হয়নি।  রায় পুনর্বিবেচনা করার আর্জি আমাদের।’

আরও পড়ুন: দিল্লি ৬৬ বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠাচ্ছে

গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরিহারা বাংলার প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা। হকের চাকরি ফিরে পেতে চলছে আন্দোলন।   এদিনই অযোগ্যদের টার্মিনেশন বা বাদ দেওয়ার দাবিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে গেলেন সুমন বিশ্বাস নামে এক চাকরিহারা শিক্ষক ।

২০১৬ সালে এসএসসি গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি-র যে কর্মীরা আদালতের নির্দেশে চাকরি হারিয়েছেন, তাঁরা যথাক্রমে ২৫ এবং ২০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন বলে ঘোষণা  করা হয় রাজ্যের তরফে। রাজ্য ওই প্রকল্পের নাম দিয়েছে, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল লাইভলিহুড অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি ইন্টারিম স্কিম, ২০২৫।’

চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে ওই ভাতা কার্যকর করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ। অন্য দিকে, রাজ্যের এই ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলা হয় হাইকোর্টে। সোমনাথ মণ্ডল-সহ কয়েক জন ‘বঞ্চিত’ চাকরিপ্রার্থী একটি মামলা করেন। তাঁদের দাবি, ভাতা দিতে হলে সকল চাকরিপ্রার্থীকে দেওয়া হোক। অথবা, সিদ্ধান্ত বাতিল করা হোক। ওই মামলাটির শুনানিও গরমের ছুটির পরে হওয়ার কথা।