এস জে আব্বাস, শক্তিগড়: কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজের গুণমান নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। উদ্বোধনের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ল ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের (দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার সরডাঙা এলাকায় নবনির্মিত আন্ডারপাস ও গার্ডওয়ালের একাংশ ভেঙে পড়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এই বিপর্যয়কে কেন্দ্র সরকারের 'উদাসীনতা' ও 'দুর্নীতি'র ফল হিসেবে দেগে দিয়ে বৃহস্পতিবার জামালপুরে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হল তৃণমূল কংগ্রেস।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে সরডাঙা মোড়ের কাছে দুর্গাপুরমুখী লেনের প্রায় ৪০ ফুট লম্বা একটি অংশ আচমকা ধসে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি ছাইবোঝাই ভারী ডাম্পার যাওয়ার পরেই রাস্তার নিচের স্তরের মাটি বসে গিয়ে এই বিপত্তি ঘটে।

বরাতজোরে সেই সময় বড় কোনো যাত্রীবাহী বাস বা ছোট গাড়ি না থাকায় বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আন্ডারপাসটি নির্মাণের সময় অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল। পর্যাপ্ত লোহার রড ও সিমেন্ট না দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার ফলেই এই ধস।


 জাতীয় সড়কের এই বেহাল দশা নিয়ে সরব হয়েছে রাজ্য প্রশাসনও। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অতীতে বারবার সরব হয়েছেন। রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম কেন্দ্রীয় সরকারকে সরাসরি নিশানা করে বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার কেবল বড় বড় কথা বলে আর প্রচার করে, কাজের কাজ কিছুই হয় না।

উদ্বোধনের কয়েক মাস যেতে না যেতেই যদি জাতীয় সড়ক ধসে পড়ে, তবে বুঝতে হবে সেখানে কী ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। টোল ট্যাক্সের নামে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা তোলা হচ্ছে, অথচ রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ বা নিরাপত্তার বালাই নেই। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে ওরা।"
 
 জামালপুরে পথ অবরোধ ও জনভোগান্তি
 
এই ঘটনার প্রতিবাদে জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেহেমুদ খাঁনের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। অবরোধের জেরে রাস্তার দু’দিকে লরি, বাস ও ছোট গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে তৃণমূল নেতা মেহেমুদ খাঁন ও ভূতনাথ মালিক দাবি করেন, কেন্দ্র ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারি সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে গিয়ে নিম্নমানের কাজ করানো হয়েছে। তাঁরা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি সংস্থার লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান।
 
খবর পেয়ে জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক কৃপা সিন্ধু ঘোষের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের আশ্বাসে দীর্ঘক্ষণ পর অবরোধ উঠলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। অন্যদিকে, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত মেরামতির ব্যবস্থা করা হবে। তবে পরিকাঠামোগত ত্রুটির অভিযোগ নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চায়নি তারা। তৃণমূল নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি, দ্রুত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রাস্তা মেরামত ও দোষীদের শাস্তি না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।