পুবের কলম ওয়েবডেস্ক : রুশ বাহিনীর হামলার চাপে আর কয়েক দিনের মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পতন হবে বলে আশঙ্কা করছে আমেরিকা। কারণ এই মধ্যে কিয়েভে প্রবেশে করেছে রুশ বাহিনী। আগে যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ফেলে এলাকা সাফ করা হচ্ছে তারপর পেছন থেকে ট্যাঙ্ক নিয়ে আসছে রুশ পদাতিক সেনা। এভাবেই ধীরে ধীরে কিয়েভে প্রবেশ করেছে তারা। পথ চলতি ইউক্রেনের বহু স্থাপনাকে কামান দিয়ে ধ্বংস করেছে তারা। ফলে আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে যে কিয়েভের পতন এখন সময়ের অপেক্ষা। রাশিয়ার শক্তির সামনে মাথা নোয়াতেই হবে ইউক্রেনকে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও কাউকে পাশে না পেয়ে যুদ্ধবিরতির আবেদন জানিয়েছেন।
তবে রাশিয়া জানিয়েছে আত্মসমর্পণ করলে অর্থাৎ অস্ত্র নামালে হামলা বন্ধ হবে।আরও পড়ুন:
এখন ইউক্রেনের সংসদ ভবন থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে রুশ সেনা। তাই ইউক্রেনের সংসদ ভবনটিও রাশিয়ার কব্জায় যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অবস্থায় দেশের নাগরিকদের অস্ত্র তুলে যুদ্ধে শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। কিন্তু এই প্রতিরোধ কতক্ষণ চলবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
আরও পড়ুন:
আমেরিকার তিন আধিকারিক এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন কিয়েভের পতনের পর ইউক্রেনের প্রতিরোধ লড়াই অকার্যকর হয়ে পড়বে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বলেছেন মস্কোর নজর হল প্রতিবেশি দেশটির অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করা। রুশ বাহিনী প্রথমে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে ঘিরে ফেলবে এবং আত্মসমর্পণে বাধ্য করবে আর তা না হলে সবকিছু ধ্বংস করে দেবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ৯৬ ঘণ্টাতেই কিয়েভের পতন হবে। আর তার এক সপ্তাহের মধ্যে ইউক্রেনের শাসনভার কোনও রুশপন্থী নেতার হাতে তুলে দেবেন পুতিন।আরও পড়ুন:
এখন বিদ্যুৎ গতিতে ইউক্রেনের সরকারি এবং সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। বহু কৌশলগত পয়েন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে। এক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন ‘বিমান ও গোলা বর্ষণ শেষ হওয়ার পরই আসল স্থল যুদ্ধ শুরু হয়। আমার মনে হয় অল্প কয়েক দিনেই কিয়েভের পতন হবে। সেনাবাহিনী আরও বেশি কিছুদিন থাকতে পারে তবে সেটা দীর্ঘ মেয়াদে নয়’। কিয়েভের পতনের পর কী হতে পারে সেই সম্পর্কে প্রাক্তন মার্কিন গোয়েন্দা মনে করেন এটা মূলত নির্ভর করবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ওপর।
তিনি ইউক্রেনীয় প্রতিরোধকে সমর্থন করে মস্কোকে উস্কে দেবেন কিনা সেটা তার ওপর নির্ভর করবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রও মার্কিন অনুমানের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।দ্বিতীয় দিনে রাজধানী কিয়েভে একটি রুশ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। শহরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের কথা জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে রাশিয়ার একটি বিমানও ভূপাতিত করার দাবি করেছে তারা। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন কিয়েভের দারনিতাস্কি জেলার একটি অ্যাপার্টমেন্টে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ওই কর্মকর্তার দাবি বিমানটিকে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। হামলা থেকে কিয়েভের একটি নয়তলা আবাসিক ভবনে আগুন ধরে গেছে। হামলায় এখনও পর্যন্ত দুই পক্ষের মিলিয়ে ৪০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে।