পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ ‘রাজদ্রোহ’ আইনে গ্রেফতার করা হল অসমের কংগ্রেস বিধায়ক শেরমান আলি আহমেদ। অসমের ঢোলপুরে উচ্ছেদের নামে পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে তিনি সরব হয়েছিলেন। উচ্ছেদ নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি টেনে আনেন ১৯৮৩ সালের অসম আন্দোলনের প্রসঙ্গ। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন– অসম আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালে এই ঢোলাপুরেই যে ৮ জন নিহত হয়েছিল তারা কেউ ‘শহিদ’ ছিল না– বরং তাঁরা ছিল ‘হত্যাকারী’। তারা বহু মিঞা মুসলিমকে (বাঙালি মুসলিম) হত্যা করেছিল।

কংগ্রেস বিধায়কের আরও দাবি– মিঞা মুসলিমরা যে ৮ জন অহমিয়াকে হত্যা করেছিল তা শুধুমাত্র নিজেদের ‘আত্মরক্ষা’র জন্যই। বিধায়কের এই মন্তব্য নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। বাঘবর কেন্দ্রের তিনবারের বিধায়ক শেরমানকে শনিবার সন্ধ্যায় গুয়াহাটিতে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার অসম পুলিশ। স্পেশাল ডিজিপি জি পি সিং জানান– ‘জেরা চলছে। আমরা ওঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু এফআইআর পেয়েছি।

ঠিক কি বলেছিলেন শেরমান? শেরমানের কথায়– ‘ওরা (অসম আন্দোলনের সময় নিহতরা) আন্দোলনের নামে ওইসময় অনেককেই খুন করেছিল। যেহেতু গ্রামবাসীরা ওদের খুব ভয় পেত– তাই গ্রামবাসীরা নিজেদের আত্মরক্ষার জন্যই ওই যুবকদের খতম করে দিয়েছিল।’

এ দিকে– কংগ্রেস বিধায়কের এই মন্তব্যের নিন্দা করেছে বিজেপি– আসু (অল্ অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন)– অগপ (অসম গণপরিষদ)-র মতো দলগুলি। তাদের অভিযোগ– কংগ্রেস বিধায়ক ‘শহিদ’দের অসম্মান করেছেন।

তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এমনকী অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির তরফেও তাঁকে শো-কজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য– ১৯৮৩ সালের অসম আন্দোলনে প্রধান নেতৃত্বে ছিল আসু। ওরা সেইসময় ‘বিদেশি অনুপ্রবেশকারী’দের দ্রুত আটক করে রাজ্য থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছিল। ওই বছরই ১৮ ফেব্রুয়ারি  আন্দোলন চরম সীমা অতিক্রম করেছিল। অসমের সেন্ট্রাল নেলি জেলার বিভিন্ন গ্রামে ২০০০-এর বেশি বাঙালি মুসলিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।