পুবের কলম, ওয়েব ডেস্কঃ বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন তার আগে ফের বাংলা ভাগের জিগির তুললেন পদ্ম শিবিরের বিধায়ক। বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় উত্তরবঙ্গকে আলাদা করার দাবি তুললেন ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়ন করতে না পারলে পৃথক করে দেওয়া হোক। উত্তরবঙ্গের মানুষও তা চান বলে দাবি শিখার। বিজেপি-র তরফে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গকে আলাদা করার এই দাবি যদিও নতুন নয়। দলের একাধিক নেতা-নেত্রীর মুখে পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবি শোনা গিয়েছে আগেও। বিধানসভা নির্বাচন, লোকসভা নির্বাচনের আগে সেই দাবি আরও জোরাল হয়।
আরও পড়ুন:
এ দিন বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, "উত্তরবঙ্গের মানুষ দিনের পর দিন বঞ্চিত। উত্তরবঙ্গের মানুষের দাবি, হয় উন্নয়ন করুন, না হলে আমাদের আলাদা করে থাকতে দিন। উত্তরবঙ্গের মানুষ চান আলাদা হোক উত্তরবঙ্গ।" এ দিন শিখা জানান, তিনি একা একথা বলছেন না। উত্তরবঙ্গের মানুষই আলাদা হতে চান। ভূরি ভূরি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, কাজের কাজ কিছুই হয় না। উত্তরবঙ্গের মানুষ দিনের পর দিন বঞ্চিত হয়েই রয়ে গিয়েছেন। সেখানকার বিধায়ক হিসেবে, উত্তরবঙ্গের মানুষের আবেগের কথা মাথায় রেখেই তিনি উত্তরবঙ্গকে আলাদা করার কথা বলছেন বলে জানান শিখা।
তিনি আরও বলেন, "আমি মানুষের প্রতিনিধি। মানুষের কথা, মানুষের চাহিদাই তুলে ধরেছি।"আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে গঙ্গারামপুরের বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায়ের বাড়িতে বৈঠকও হয়। কার্শিয়াং থেকে বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মাও সেই বৈঠকে যোগ দেন। পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবিকে সমর্থন করেন তিনি। একসময় লাগাতার পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবি তুলতে শোনা যায় জন বার্লাকেও। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এই মুহূর্তে যদিও জল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ও পৃথক উত্তরবঙ্গের জিগির শোনা যায় বিজেপি-তে।
সেই সময় বিষ্ণুপ্রসাদকে বলতে শোনা যায়, "বাংলা ভাগ। আমরা আলাদা রাজ্য চাই। এটা তো আমি বিধানসভার ভিতরেও বলেছি। বাইরেও বলেছি। যত বার জিজ্ঞাসা করবেন, তত বার বলব।" কখনও আনন্দময় বর্মন, কখনও বরেনচন্দ্র বর্মন, বার বার পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবি শোনা গিয়েছে বিজেপি নেতাদের মুখে। সেই নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সতর্ক করলেও পিছু হটেননি কেউ। এর পাল্টা হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যায় তৃণমূলকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় নিজে জানিয়েছিলেন, রাজ্যকে কোনও ভাবে ভাগ হতে দেবেন না তিনি।