পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ইরানকে ঘিরে চলা যুদ্ধ নিয়ে সরব হলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধনকুবের খালাফ আহমদ আল-হাবতুর। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তুলেছেন—ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে উপসাগরীয় অঞ্চলকে জড়ানোর অনুমতি তাঁকে কে দিয়েছে? হোটেল, বিলাসবহুল ভবন, শিক্ষা ও নির্মাণ খাতে বড় বিনিয়োগ রয়েছে আল-হাবতুরের। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বও দীর্ঘদিনের।
একসময় দুবাইয়ের পাম জুমেইরা এলাকায় ‘ট্রাম্প টাওয়ার’ তৈরির পরিকল্পনাও করেছিলেন তাঁরা, যদিও সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি নিজের সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের উদ্দেশে একটি খোলাচিঠি লেখেন আল-হাবতুর। সেখানে তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে হঠাৎ ইরানে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে উদ্বেগ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর ভয়াবহ পরিণতির কথা কি বিবেচনা করা হয়েছিল? যুদ্ধ যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে উপসাগরীয় দেশগুলো—এই বিষয়টি কি ভাবা হয়েছিল? আল-হাবতুর আরও জানতে চান, এই যুদ্ধ কি শুধু ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের চাপে নেওয়া হয়েছে? তিনি আরও লিখেছেন, প্রকৃত নেতৃত্ব যুদ্ধ শুরু করার মধ্যে নয়, বরং প্রজ্ঞা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শান্তির পথ খোঁজার মধ্যেই প্রকাশ পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। কারণ ইরানের সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে উপসাগরীয় দেশগুলোর রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বহু দেশের অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।