পুবের কলম ওয়েবডেস্ক : ফিলিস্তিনে আবারও রক্ত ঝরল এক তারকা ক্রীড়াবিদের। গাজায় (Gaza) ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রাক্তন জাতীয় বাস্কেটবল (Basketball) খেলোয়াড় মুহাম্মদ শালান । শোনা যাচ্ছে, অসুস্থ কন্যার জন্য খান ইউনিস এলাকায় একটি ত্রাণ শিবিরে ওষুধ ও খাবার সংগ্রহের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন শালান। সেখানে লাইনে দাঁড়ানোর সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইসরাইলি সেনা। ঘটনা স্থলেই মারা যান ফিলিস্তিনের প্রাক্তন এই তারকা বাস্কেটবল খেলোয়াড়।
গাজায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় প্রতিনিয়ত নিহত হচ্ছেন শতশত মানুষ। সেখানে চলছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। যার জেরে গাজায় দেখা দিয়েছে দুর্ভিক্ষ। খাবারের অভাবে প্রতিদিন সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ থাকছেন অনাহারে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে বেড়ে চলেছে শিশুমৃত্যুর হার। এমনই এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে ৪০ বছর বয়সী শালান বেশ কয়েক’দিন ধরে স্থানীয় ত্রাণ শিবিরে তার ৬ বছরের মেয়ে মরিয়মের জন্য ওষুধ ও প্রয়োজনীয় খাবার খুঁজছিলেন।
মরিয়ম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি বিকল ও রক্ত সংক্রমণে (সেপসিস) ভুগছে। কিন্তু এদিনই মেয়েকে সুস্থ করে তোলার শালানের লড়াই শেষ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে ফিলিস্তিনি বাস্কেটবল ফেডারেশনের মহাসচিব ফারেস আওয়াদ বলেন, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, ফিলিস্তিনি বাস্কেটবল তারকা মুহাম্মদ শালান আর নেই। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। তার সন্তানদের জন্য খাবার ও ওষুধ সংগ্রহ করতে গিয়েই মৃত্যু হয়েছে।’
ছয় সন্তানের পিতা শালান নিজের খেলোয়াড়ি জীবনে গাজা স্ট্রীপের আল-বুরেইজ সার্ভিসেস ক্লাবের হয়ে দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতেন।
পরবর্তীতে তিনি একটি গাজা স্ট্রীপ কাপ ও দুটি সুপার কাপ জেতেন। এ ছাড়াও আল-মাগাজি সার্ভিসেস, খান ইউনিস সার্ভিসেস, আল-শাতি সার্ভিসেস, গাজা স্পোর্টস, ওয়াইএমসিএ ও জাবালিয়া সার্ভিসেসের হয়ে দীর্ঘদিন দাপিয়ে খেলেছেন শালান। যার ফলে খুব কম সময়ে তিনি ফিলিস্তিন জাতীয় বাস্কেটবল দলের প্রধান অস্ত্র হয়ে দাঁড়ান।
পরবর্তীতে তিনিই ফিলিস্তিনের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের সম্মান পান। অথচ সেই তারকা খেলোয়াড়কে এবার গাজায় ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে মরতে হল ইসরাইলি সেনার গুলিতে। উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেই গাজায় নিহত হয়েছিলেন ফিলিস্তিন জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন তারকা সুলেইমান আল-ওবাইদ। যাকে ‘ফিলিস্তিনি পেলে’ নামে চিনত ফুটবলবিশ্ব।